Tourist Places in Kumilla
চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা কুমিল্লা। এই জেলা খাদি কাপড় ও রসমালাইয়ের জন্যে বিখ্যাত । কুমিল্লা জেলা প্রাচীন ঐতিহ্যসমৃদ্ধ প্রাচীনকালে সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। কুমিল্লা জেলার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ধর্মসাগর দীঘি, রূপবান মুড়া, চন্ডীমুড়া মন্দির, ম্যাজিক পার্ক ইত্যাদি।

শালবন বৌদ্ধ বিহার
বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন শালবন বৌদ্ধ বিহার (Shalbon Buddha Bihar) কুমিল্লা জেল ার কোটবাড়িতে অবস্থিত। তৎকালীন সময় এই অঞ্চলে শাল ও গজারির বন ছিল বলে বিহারটি শালবন বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে। শালবন বিহারটি অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো তবে আকারের দিক দিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে কিছুটা ছোট।

ময়নামতি জাদুঘর
কুমিল্লা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে ময়নামতি জাদুঘর (Mainamati Museum) অবস্থিত,যা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালা হিসাবে বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ স্থান।কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর নানা নিদর্শন ময়নামতি জাদুঘরের ৪২ টি ভিন্ন ভিন্ন সংরক্ষণাগারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি
ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি (Moynamoti War Cemetery) তে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭৩৭ জন সৈন্য চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। যার মধ্যে যুদ্ধে নিহত সৈন্য ছাড়াও ২৪ জন জাপানি যুদ্ধবন্দি এবং ১ জন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছে। কুমিল্লা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের টিপরা বাজার ও ময়নামতি সাহেব বাজারের মধ্যস্থলে প্রায় ৪.৫ একর পাহাড়ি ভূমির উপর অবস্থিত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি।


আনন্দ বিহার
কুমিল্লা জেলা সদরের কোটবাড়ির ময়নামতিতে বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য আনন্দ বিহার (Ananda Bihara) অবস্থিত। নকশা করা বর্গাকৃতির বিশাল বিহার কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দির ও সুন্দর এক দিঘি। মন্দিরকে ঘিরে কাঠামোর প্রতিটি বাহুতে রয়েছে সন্ন্যাসীদের কক্ষ।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী
কুমিল্লা জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে কোটবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বা বার্ড (Bangladesh Academy for Rural Development, BARD) অবস্থিত । প্রায় ১৫৬ একর ছায়া সুনিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর অবস্থান।

ধর্মসাগর দীঘি
ধর্মসাগর দীঘি (Dharmasagar Dighi) কুমিল্লা জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। ১৭৫০ থেকে ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে প্রজাহিতৈষী পাল বংশের রাজা ধর্মপাল তৎকালীন দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জলের কষ্ট লাঘবের জন্য ধর্মসাগর দীঘিটি খনন করেন । তাঁর নামানুসারেই দীঘির নামকরন করা হয় ধর্মসাগর দীঘি।
.png)
