top of page
2.jpg

সাজেক ভ্যালি

তুলার মতো মেঘমালা, চারদিকে সারি সারি সবুজ পাহাড়। সবুজের রাজ্যে এ যেন সাদা মেঘের হ্রদ! নিশ্চয়ই ভাবছেন স্বপ্নের মত সুন্দর এরকম দৃশ্য বাস্তবে দেখা যাবে কি? আর দেখা গেলেও হয়ত যেতে হবে বহুদূরে কোনো অজানা দেশে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতেই রয়েছে এরকম এক মেঘপুরী; যার নাম সাজেক ভ্যালি।এখানে প্রকৃতি ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ বদলায়। কখনো শীত আবার কখনো বর্ষা। চোখের পলকেই চারপাশ ঢেকে যাবে সাদাকালো মেঘে। এ যেন মেঘের উপত্যকা। নিজেকে মনে হবে মেঘের রাজ্যের বাসিন্দা।

সাজেক কোথায় অবস্থিত

সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত। সাজেক বাংলাদেশের বৃহত্তম ইউনিয়ন, যার আয়তন প্রায় ৭২০ বর্গমাইল। এটি ভারতের ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি হয়ে এখানে যাতায়াত বেশি সুবিধাজনক। তাই সবাই সাধারণত খাগড়াছড়ি থেকেই সাজেক যেতে পছন্দ করে।

সাজেকে কি দেখবেন/ করবেন

সাজেক এমনই আশ্চর্য্যজনক জায়গা যেখানে একই দিনে আপনি প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে হতে পারেন চমৎকৃত। কখনো বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ জায়গা।

সাজেকে গেলে অবশ্যই সকালে ভোরের সময়টা মিস করবেন না। মেঘের খেলা আর সূর্যোদয়ের আলোর মেলা এই সময়েই বসে। এই জন্যে আপনাকে খুব ভোরে উঠে চলে যেতে হবে হ্যালিপ্যাডে, সেখান থেকেই সবচেয়ে সুন্দর সূর্যোদয় দেখা যায়। বিকেলের কোন উঁচু জায়গা থেকে সূর্যাস্তের রঙ্গিন রূপ আপনাকে বিমোহিত করবেই। আর সন্ধ্যার পর আকাশের কোটি কোটি তারার মেলা, আপনার প্রাণ জুড়িয়ে দিবে নিমিষেই। আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখা পাবেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের।

কংলাক পাহাড় হচ্ছে সাজেক ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। আর সাজেক ভ্যালির শেষ গ্রাম কংলক পাড়া লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। কংলাক পাড়া থেকেই কর্ণফুলী নদী উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। চাইলে রুইলুই পাড়া থেকে দুই ঘন্টা ট্রেকিং করে কমলক ঝর্ণা দেখে আসতে পারবেন। সুন্দর এই ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামেও পরিচিত।

সাজেক ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সাজেকের রূপের আসলে তুলনা হয় না। সারা বছরই বর্ণিল সাজে সেজে থাকে সাজেক। তাই বছরের যে কোনো সময় আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন।তবে জুলাই থেকে নভেম্বর এখানকার আকাশে মেঘের পরিমান বেশি থাকে। তাই মেঘের খেলা দেখতে চাইলে এই সময় আসা উত্তম।

সাজেকে দেখার যা আছে

রুইলুই পাড়া, মেঘমাচাং, মেঘপুঞ্জি, জুমঘর কটেজ (না থাকলেও গিয়ে দেখা উচিত), সাজেক ভ্যালি রিসোর্ট (না থাকলেও গিয়ে দেখা উচিত), রুন্ময় রিসোর্ট (না থাকলেও গিয়ে দেখা উচিত), স্টোন গার্ডেন (সাজেক ভ্যালি রিসোর্টের পাশে, ২০ টাকা টিকেট), রুইলুই পাড়া থেকে সাজেক হাঁটাহাঁটি করা (ফুটপাতগুলো অসাধারন), হেলিপ্যাড-১ থেকে সূর্যাস্ত, হেলিপ্যাড-২ থেকে সূর্যোদয়, হেলিপ্যাড-২ এর পাশের দোলনায় দোল খাওয়া, কংলাক পাড়া (সাজেক থেকে হেঁটে যেতে ৪৫ মিনিট লাগে, ভোর বেলা যাওয়া ভালো), কংলাক পাড়ার চূড়া থেকে সূর্যোদয় দেখা, ঝাড়ভোজ পিকনিক স্পটে যাওয়া (২০ টাকা টিকেট), হেলিপ্যাডে বসে রাতের আকাশ উপভোগ করা, খুব ভোরে মেঘের চাদরে ঢাকা পাহাড় দেখা, কমলক ঝর্ণা (হেঁটে যেতে ২-২.৫ ঘন্টা লাগে, রুইলুই পাড়া থেকে গাইড ৩০০-৩৫০ নিবে), রুইলুই পাড়ার কুয়াতে গোসল করা

সাজেক ভ্রমণে যাবার উপায়

সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। তাই প্রথমেই আপনাকে খাগড়াছড়ি আসতে হবে।

ঢাকা থেকে শ্যামলী, সেন্টমার্টিন পরিবহন, হানিফ, সৌদিয়া, এস আলম, ঈগল, শান্তি পরিবহন ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। আর বাসগুলো সাধারণত রাত ১০ টার মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।  ঢাকায় গাবতলী, কলাবাগানসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে এইসব পরিবহণের কাউন্টার। ছুটির দিন গুলোতে যেতে চাইলে আগে থেকেই টিকেট কেটে রাখা ভালো নয়তো পড়ে টিকেট পেতে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। BRTC এসি বাস (চট্টগ্রাম) কদমতলী: ০১৬৮২৩৮৫১২৫ খাগড়াছড়ি: ০১৫৫৭৪০২৫০৭

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে মাহিন্দ্রা বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে পারবেন। এক গাড়িতে করে ১২-১৪ জন যেতে পারবেন।পারবেন। তবে লোক কম থাকলে অন্য কোন ছোট গ্রুপের সাথে কথা বলে শেয়ার করে গাড়ি নিলে খরচ কম হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সিএনজি দিয়ে সাজেক যেতে পারবেন। তবে পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তা বলে সিএনজি দিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জীপ মালিক সমিতি নির্ধারণ করেছে মাহিন্দ্রা ও চান্দের গাড়ি ভাড়া:

খাগড়াছড়ি হতে সাজেক একদিনে আসা-যাওয়া: চান্দের গাড়ি ৫,১০০ ও মাহিন্দ্রা ৫,৪০০ টাকা।

খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রিযাপন: চান্দের গাড়ি ৬,৬০০ ও মাহিন্দ্রা ৭,৭০০ টাকা।

খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রিযাপন (আলুটিলা রিচাং ঝরনাসহ): চান্দের গাড়ি ৮,১০০ ও মাহিন্দ্রা ৯,৭০০ টাকা।

খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ২ রাত্রিযাপন: চান্দের গাড়ি ৮ হাজার ৬০০ ও মাহিন্দ্রা ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ২ রাত্রিযাপন (আলুটিলা রিচাং, ঝরনাসহ): চান্দের গাড়ি ১০,৫০০ ও মাহিন্দ্রা ১২,৫০০ টাকা।

 

খাগড়াছড়ি টু সাজেক চান্দের গাড়ির যোগাযোগ-০১৬৪১৬৪৪২৪৪; ০১৮৮৪২০৮৫২০ ।

খাগড়াছড়ি টু সাজেক সাদা মাহেন্দ্র পিক-আপ গাড়ির যোগাযোগ-০১৬৪১৬৪৪২৪৪; ০১৮৮৪২০৮৫২০ ।

সেনাবাহিনীর এসকোর্ট কখন শুরু হয়

দীঘিনালা থেকে সেনাবাহিনীর এসকোর্ট শুরু হয়। প্রতিদিন ২ টি এসকোর্ট পরিচালনা করা হয়। প্রথম এসকোর্ট সকাল ১০ টায়, দ্বিতীয় এসকোর্ট বিকাল ৩ টায়। একই ভাবে সাজেক থেকে প্রথম এসকোর্ট সকাল ১০ টায়, দ্বিতীয় এসকোর্ট বিকাল ৩ টায়। আপনাকে এই এসকোর্ট এর সাথেই যেতে আসতে হবে। মিস করলে ওই দিন থেকে পরের দিন আবার ধরতে হবে।

কোথায় থাকবেন

সাজেকে থাকার জন্য বেশ কিছু রিসোর্ট এবং আদিবাসীদের কটেজ আছে। প্রতি রাতের জন্য ভাড়া ২০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। ছুটির দিন গুলোতে ভিড় একটু বেশি থাকে। তাই ভালো রিসোর্ট পেতে চাইলে এক মাস আগে থেকে বুকিং দিয়ে গেলে ভালো। এছাড়া কম খরচে আদিবাসীদের কটেজে থাকা যায়। এখানের সব রিসোর্ট, কটেজ থেকেই মোটামোটি সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। আগের থেকে রিসোর্ট, কটেজ এর সংখ্যা বাড়ায় এখন আগের মতো আর থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যা হয় না।

রিসোর্ট বুকিং সংক্রান্ত পরামর্শ

ছুটির দিন/অতিরিক্ত ভীড় হতে পারে এমন দিন ব্যতীত অন্য সময় আগে থেকে রিসোর্ট বুকিং দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সাজেকে অনেক রিসোর্ট রয়েছে। সেখানে গিয়েই রিসোর্ট বুকিং করতে পারবেন।

তবে পরিবার বা বড় গ্রুপ হলে আগে থেকে বুকিং করে যাবেন।

রুম থেকে ভালো ভিউ পাওয়া যায় এমন রিসোর্টে থাকার চেষ্টা করবেন।

এখানে রিসোর্টের যে ভাড়া উল্লেখ করা আছে তা পরিবর্তন হতে পারে তাই যাওয়ার পূর্বে ফোন করে জেনে নিবেন।

কোথায় কী খাবেন

সাজেকে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছে। তাদের মধ্যে চিম্বাল রেস্টুরেন্ট, ফুডানকি রেস্টুরেন্ট, মারুতি দিদির রেস্টুরেন্ট, কাশবন রেস্টুরেন্ট, মনটানার রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য। এদের খাবার বেশ ভাল। এখানে ডাল, ভাত, সবজি দেশী মুরগী প্যাকেজ খাবার পাওয়া যায়। খরচ হবে ২০০/২৫০ টাকা। ইচ্ছে করলে রাতে বার বি কিউ করতে পারেন। এছাড়া আদিবাসীদের ঘরেও খেতে পারেন। এখানে পেঁপে, আনারস, কলা ইত্যাদি ফল খুব কম দামে পাওয়া যায়। একদম ফ্রেশ আর খেতে দারুন টেস্টি। অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।

খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্তোরার (System Restaurant) অবস্থান। এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন। যোগাযোগ: ০৩৭১-৬২৬৩৪, ০১৫৫৬৭৭৩৪৯৩, ০১৭৩২৯০৬৩২২ খাওয়া দাওয়া শেষে টুপ করে বেরিয়ে আসুন কাছের নিউজিল্যান্ড পাড়া থেকে।

জেকে খেতে হলে রুন্ময় রিসোর্টে খাওয়া যায়। আর তা ছাড়া সাজেক রিসোর্টে থাকলে ওখানেও খাওয়া যায়। এছাড়া রুইলুই ও কংলক পাড়াতে আদিবাসিদের সাথে খাওয়া যায়। এজন্য অবশ্য আপনাকে আগে থেকে বলে দিতে হবে ক'জন খাবেন, কী খেতে চান এসব।

সাজেক ভ্রমণ খরচ

যাতায়াত খরচ: বাসের টিকেট – যাওয়া ও আসা সহ ১,২০০ টাকা (নন এসি), ৩,০০০-৩,৪০০ টাকা (এসি)।দুইদিনের জন্যে চান্দের গাড়ির ভাড়া  -৮০০০ টাকা । অন্যান্য খরচ – ২০০টাকা।

খাবার খরচ: যাত্রার দিন –খাবার ১০০-২০০ টাকা। ১ম দিন – নাস্তা ৬০-১০০ টাকা, দুপুরের খাবার ২০০-২৫০ টাকা ও রাতের খাবার/বার বি কিউ ৩০০-৪০০ টাকা। ২য় দিন – নাস্তা ৬০-১০০ টাকা, দুপুরের খাবার ২০০-২৫০ টাকা। ফিরে আসার দিন – খাবার ১০০-২০০ টাকা। চাইলে আরও কম খরচে খাওয়া দাওয়া করা সম্ভব। বাজারের ভিতরের দিকে হোটেল গুলোতে গিয়ে সাধারণ খাবার খেলে খরচ অনেক কমে যাবে।

থাকার খরচ: স্ট্যান্ডার্ড হোটেল/রিসোর্ট ডাবল বেড ২০০০-২৫০০ টাকা।  খুবই পিক সিজন আর সরকারি ছুটির দিনে ভাড়া আরও একটু বেড়ে যাবে। বেশিরভাগ রুমে ডাবল বেড থাকে। এক রুমে কয়েকজন মিলে থাকলে খরচ ভাগ হয়ে কমে যাবে। পিক সিজন ও ছুটির দিন ছাড়া গেলে খরচ আরও কম হবে।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

সাজেক যাবার পথ বেশ আঁকাবাঁকা, উঁচু নিচু এবং বিপদজনক। তাই গাড়িতে ভ্রমণ করার সময় সতর্ক থাকবেন।

জীপ থেকে সাজেক যাওয়ার পথে শিশুদের দিকে চকলেট ছুড়ে মারবেন না।

এখানে সব মোবাইল অপারেটর এর নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। এয়ারটেল, রবি, টেলিটক এর নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।

 ছুটির দিনে গেলে আগে থেকেই রিসোর্ট বুকিং করে যাবেন।

এখানে যেতে কোনো গাইডের প্রয়োজন হয় না।

আদিবাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। ছবি তোলার আগে অনুমতি নিবেন।

 যাবার পথে বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সবার তথ্য দিতে হয়। তাই টিমের সবার নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ন্যাশনাল আইডি নাম্বার একটা কাগজে প্রিন্ট করে কয়েক কপি সাথে রাখুন। সবার ন্যাশনাল আইডির কপি অবশ্যই সাথে রাখুন।

সাজেকের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলার ঝুড়ি আছে। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।

সাজেক যত বেলা, যখনই খাবেন আগে থেকে অর্ডার দিতে হবে।

দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হওয়া আমাদের দায়িত্ব ।

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
bottom of page