top of page
4.jpg

কক্সবাজার(Coxsbazar) 

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে সমুদ্র-পাহাড়-নদীর এক অপূর্ব সহাবস্থান রয়েছে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী হিসাবে পরিচিত কক্সবাজার।কক্সবাজার অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. বিস্তৃত। কক্সবাজা্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র। আর তাই এখানে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত – তিন ধরণের মানুষের জন্যই রয়েছে সুবিধা। বাংলাদেশের ভিতরে কোথাও ভ্রমনের চিন্তা করলে সবার প্রথমে অবশ্যই কক্সবাজারের নাম আসবে।

কক্সবাজার ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঢেউয়ের গর্জন শুনতে এখানে বছরজুড়ে ভ্রমণপ্রেমীরা ছুটে আসেন। শীতকালে সবাই বেড়াতে পছন্দ করে বলে শীতেই বেশি পর্যটকমুখর থাকে কক্সবাজার। কিন্তু সমুদ্র এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি সারা বছরই যেতে পারেন। প্রতিটা মৌসুমে সমুদ্র তার রূপ বদলায়। শীতের রাতে সৈকতে হাঁটতে আপনার যেমন ভালো লাগবে, তেমনি ঝুম বৃষ্টির কোন এক সন্ধ্যায় বৃষ্টিশেষে আপনি বিচে গেলে যে স্নিগ্ধ অনুভূতি পাবেন, কোন কিছুর সাথে তার তুলনা হবেনা। আবার হেমন্তের হেমন্তের কোনো জোছনা রাতে বিচে বসে সমুদ্রের যে রূপ লাবন্য দেখতে পাবেন, সেটা আপনার জীবনের সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে অনেককাল। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা ভালো নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার ভ্রমণে আপনার যে পরিমাণ খরচ হবে, বছরের অন্য সময় গেলে তার থেকে ৩০ ভাগ সময় লাগবে।

কক্সবাজার ভ্রমণে যাবার উপায়

আকাশপথ, রেলপথ এবং সড়কপথ যেকোন পথেই যেতে পারেন কক্সবাজার।আমরা যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করব তাদের জন্য বাসের পাশাপাশি রয়েছে বিমানের সুবিধা। তা ছাড়া ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়।

সড়কপথে

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে কক্সবাজারের সরাসরি গাড়ী চলে ।ঢাকার কল্যাণপুর, কলাবাগান, আরামবাগ, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি স্থান থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর বাস যেমন শ্যামলী,হানিফ,ইউনিক, ঈগল, টিআর,মর্ডান লাইন,স্টার লাইন,এস আলম, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, সৈাদিয়া, সোহাগ, গ্রীন লাইন, দেশ ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন পরিবহন ইত্যাদি   সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে চলাচল করে। নন এসি বাসের ভাড়া পড়বে ৮০০-১২০০। এসি বাসের(ইকোনমি ক্লাস) ভাড়া পড়বে ১৬০০-২০০০।এসি বাসের((বিজনেস ক্লাস) ভাড়া পড়বে ২০০০-৩০০০।সময় লাগতে পারে ১২-১৪ ঘন্টার মত।

ঢাকা থেকে প্রতিদিনই অনেক বাস পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯),  গ্রীন লাইন পরিবহন (০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১), সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭), শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪), এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০), সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮), টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪।

রেলপথে

অনেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম যেয়ে তারপর সেখান থেকে কক্সবাজার যেতে চান।

ঢাকা  থেকে প্রথমে  ট্রেনে   চট্টগ্রাম এবং পরে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাসে  কক্সবাজারে যাওয়া যায়।

ঢাকার কমলাপুর এবং বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চিটাগাং মেইল, তূর্ণা, নিশীথা ও চট্টগ্রাম মেইল আলাদা আলাদ সময় ছেড়ে যায়।ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী এবং ভাড়া জানতে পারবেন www.railway.gov.bd সাইট থেকে।ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী এবং ভাড়া জানতে পারবেন রেলওয়ের ওয়েব সাইট থেকে

 

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের উল্টা পাশেই বিআরটিসির কাউন্টার থেকে বিআরটিসির বাসে যেতে পারেন কক্সবাজার। অথবা সিএনজি নিয়ে নতুন ব্রীজ বা দামপাড়া যেয়ে কক্সবাজারের গাড়ীতে উঠতে হবে।

চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘন্টায় কক্সবাজারের গাড়ী পাওয়া যায় বহদ্দার হাট থেকে। অধিকাংশ গাড়ীও অত্যন্ত লোকাল। ভালো সার্ভিস দেয় এস আলম ও সৈাদিয়া, ছাড়ে গরীবুল্লাহ শাহ মাজার, দামপাড়া থেকে।লোকাল বাস সমুহ ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা আর ডিরেক্ট বাস গুলো ৩৫০-৪০০ টাকা।

আকাশপথে

বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ইউএস বাংলা সহ বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। রিটার্ণ ভাড়া ৮,০০০ থেকে শুরু করে ১২,০০০ টাকা ।ওয়ান ওয়ের ভাড়া ৫০০০ থেকে শুরু।তবে ইদানীং বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রায় সারা বছরই ডিসকাউন্ট অফার থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে ভাড়া অনেক কম হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানে যেতে সময় লাগে ৫০ মিনিট। রাউন্ড ট্রিপ ইকোনমি ক্লাসে ভাড়া পরবে প্রায় ১০০০০-১২৫০০ টাকা।

বিমান সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ: বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪), নভোএয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১), ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০), রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩), ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)। ক্লাস ভেদে ঢাক-কক্সবাজার-ঢাক রিটার্ন টিকিট দশ থেকে সাড়ে এগার হাজার টাকা

কক্সবাজারের বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। অফ সিজনে সাধারণত অগ্রিম বুকিং না দিয়ে গেলেও হোটেলে রুম পাওয়া যায়। তবে পিক সিজনে অগ্রিম হোটেল বুকিং দিয়ে যাওয়াই উত্তম। কক্সবাজারের উল্লেখযোগ্য হোটেল/মোটেল/রিসোর্টের মধ্যে আছে মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ, সী প্যালেস, সী গাল, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন, ইউনি রিসোর্ট ইত্যাদি। মান ও সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের হোটেল আছে। আপনার বাজেট এবং চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন মানের হোটেলে ১,০০০-২০,০০০ টাকা দিয়ে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। আপনার পরিবার নিয়ে যদি আপনি একটু স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে চান তবে ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে পারেন। এসি/নন এসির ২/৩/৪ বেড রুম ও রান্নাঘর বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের প্রতিদিন ভাড়া হতে পারে ২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। এরকম একটি ফ্ল্যাট বাড়ীর ফোন নাম্বার (আলফা ওয়েব, কলাতলি রোড ০১৭১৫৬৮৩৯৫৬), ভয়েজার (০১৬১৬১০০৪০০)। এ ছাড়াও হোটেল আইল্যান্ডিয়ার গলিতে আরও অনেকগুলো আছে, খোজাখুজি করে দেখতে পারেন।

সমুদ্র মনকে প্রশান্ত করে। বলা হয়ে থাকে সমুদ্রের সামনে গেলে মনের দুয়ারও সমুদ্রের মতো উন্মুক্ত হয়ে যায়। আপনি সকাল বিকাল সন্ধ্যায় হয়তো সমুদ্র পাড়ে যাবেন, নির্জনে বসে হয়তো ঢেউয়ের গর্জ শুনবেন বা এলোমেলো হেঁটে বেড়াবেন সারি বেধে থাকা ঝাউবনের ভিতর। তবে সবসময় একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে সেফটি ফার্স্ট। সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিন। ভাটার সময় সমুদ্রে নামবেন না।

যদি বৃষ্টির দিনে কক্সবাজার যান, তাহলে বৃষ্টির পরের সময়টা বিচে যেতে চেষ্টা করবেন। এসময় একটা স্নিগ্ধ অনুভূতি হবে। আর জোৎস্ন্যা রাতে রুপালী আলোর নিচে বসে সমুদ্রের গর্জন আপনার মন ভালো করবে। ঢেউয়ের গর্জন, মৃদু বাতাসের সাথে জোছনার মাখামাখি আপনাকে বিমুগ্ধ করবে।

কক্সবাজারের কাছেই হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানী বিচ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, রামু বৌদ্ধ বিহার ও সেন্টমার্টিন এর মতো পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। আপনি সময় সুযোগ ও সুবিধামতো এগুলো থেকেও বেড়িয়ে আসতে পারেন। ভ্রমণের আনন্দময় মুহূর্তগুলো ছবি তুলে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে চান সবাই। চাইলে বিচ ফটোগ্রাফার দিয়েও আপনি ছবি তুলতে পারবেন। এছাড়া স্পিডবোট রাইড, প্যারাগ্লাইডিং সহ বিভিন্ন এক্টিভিটিজের সুযোগ আছে কক্সবাজারে।

কক্সবাজারে প্রায়  প্রতিটি আবাসিক হোটেলে অথবা হোটেলের কাছেই নিজস্ব  রেস্টুরেন্ট আছে তবে সেখানে খাবারের দাম একটু বেশী হবে। বেশীর ভাগ হোটেলে সকালের নাস্তা কমপ্লিমেন্টারী থাকে (রুম ভাড়ার সাথে যুক্ত)। যদি দুপুরে ও রাতে বাইরে খেতে চান তবে কক্সবাজারে অনেক রেস্টুরেন্ট পাবেন। বেশীর ভাগ রেস্টুরেন্ট কলাতলী রোডে অবস্থিত। উল্লেখযোগ্য রেস্টুরেন্টগুলো হচ্ছে – পৌশী রেস্টুরেন্ট, ঝাউবন রেস্টুরেন্ট, লাইভ ফিস রেস্টুরেন্ট, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব এন্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, ডিভাইন সী স্টোন ক্যাফে, কয়লা, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা রেস্টুরেন্ট, কাশবন রেস্টুরেন্ট, পানকৌড়ী রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। এসব হোটেল ভাত, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাবেন। তবে খাবার অর্ডার দেয়ার আগে দাম জেনে নিবেন। কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশ কিছু রেস্তোরা আছে সেখানে বিকালের নাস্তা খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও সুর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন।        

মেনু অনুসারে দামের তালিকা নিচে দেওয়া হল। সিজনে কম/বেশী হতে পারে: ভাত: ২০-৪০ টাকা, মিক্সড ভর্তা: ৭৫/১৫০/৩০০ (৮-১০ আইটেম), লইট্যা ফ্রাই: ১০০-১২০ (প্রতি প্লেট ৬-১০ টুকরা), কোরাল/ভেটকি: ১৫০ (প্রতি পিচ), গরু: ১৫০-২০০ (২ জন শেয়ার করতে পারবেন), রপচাঁদা ফ্রাই/রান্না: ৩০০-৪০০ (বড়, ২জন খাওয়ার মত), ডাল: ৩০-৬০।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান/কক্সবাজারের কোথায় কী দেখবেন

কক্সবাজার বেড়াতে গেলে শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, ঘুরে দেখবেন আশেপাশের আরও কিছু দর্শনীয় স্থান। আপনার সময় ও সুবিধা অনুযায়ী আগেই পরিকল্পনা করে নিতে পারেন কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন। আশেপাশে দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলো হলো।

সমুদ্রসৈকত 

কক্সাবাজারের তিনটি সৈকত মোটামটি বিখ্যাত। লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী বীচ। এছাড়াও কক্সবাজার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের আকর্ষণীয় সৈকতগুলো হল পাহাড় ঝর্ণার হিমছড়ি,পাথুরে সমুদ্র সৈকত ইনানী,মেরিন ড্রাইভ সড়ক,

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড (Radiant Fish World) পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায় অবস্থিত একটি ফিস অ্যাকুরিয়াম (Aquarium) এবং ফিশ মিউজিয়াম। এ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সে আছে সাগর ও মিঠা পানির প্রায় ১০০ প্রজাতির মাছ। বিরল প্রজাতির মাছ সহ এখানে আছে হাঙ্গর, পিরানহা, শাপলাপাতা, পানপাতা, কাছিম, কাঁকড়া, সামুদ্রিক শৈল, পিতম্বরী, সাগর কুঁচিয়া, বোল, জেলিফিস, চেওয়া, পাঙ্গাস, আউস সহ আরও অনেক মাছ ও জলজ প্রাণী। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুকুর ও সাগরের তলদেশের বৈচিত্রময় পরিবেশ। ভেতরের সুন্দর ডেকোরেশন অ্যাকুরিয়ামটিকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে। অ্যাাকুরিয়ামে ঢুকলে মনে হবে আপনি সাগরের তলদেশে আছে, আর আপনার চারপাশে খেলা করছে বর্ণিল প্রজাতির নানা মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী। ইচ্ছে করলে দেখতে পারবেন থ্রিডি শো। পুরো অ্যাকুরিয়ামটি ভালো করে ঘুরে দেখতে সময় লাগবে প্রায় ২ ঘন্টা।

প্রবেশের মূল্য: ফিশ ওয়ার্ল্ডে প্রবেশের জন্যে ফি ৩০০ টাকা। এছাড়া থ্রিডি শো এর টিকেট মূল্য ৫০ টাকা। সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে খোলা থাকে। যোগাযোগ: মোবাইল: 01701-289714, 01701-289711, 01701-289712, 01701-289713

সী পার্ল ওয়াটার পার্ক

ইনানীর রয়্যাল টিউলিপ রিসোর্ট সংলগ্ন সী পার্ল ওয়াটার পার্ক বাংলাদেশের পর্যটননগরী কক্সবাজারের প্রথম ওয়াটার পার্ক। ৯ একর জায়গা নিয়ে তৈরি বিশাল এই পার্কে রয়েছে নানান রকম নামের, নানান রকমের রাইডস। এখানে আছে উইন্ড স্টর্ম, মাল্টি ল্যান্ড, কামি কাযি বা বডি স্লাইড, অ্যাকুয়া লুপ, ফ্লোট স্লাইড, থান্ডার বোউল নামের রাইডস। বাচ্চাদের বিশেষ পছন্দ ফান পুল এবং রেইন ড্যান্স। রেইন ড্যান্সে পানির ফোয়ারাগুলো এমনভাবে ভেজাবে এবং চারপাশে জলের নৃত্য করবে যে মনে হবে রংধনু। আর পরিবারসহ আনন্দে মেতে ওঠার জন্য থাকছে ফান পুল। মোটকথা, কক্সবাজারে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গেলে সব বয়সের মানুষ, বাচ্চা থেকে তরুণ বা যুবক, ছেলে বা মেয়ে, পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করা যাবে এ সী পার্ল ওয়াটার পার্কে। 

প্রবেশের মূল্য:সী পার্ল ওয়াটার পার্কে প্রবেশের মূল্য এবং সব রাইডের দাম মিলিয়ে পড়বে জনপ্রতি মাত্র ৫৫০ টাকা।

ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক

কক্সবাজার থেকে থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি অবস্থিত। কক্সবাজার শহর থেকে আপনি লোকাল মাইক্রোবাস অথবা চকরিয়াগামী কক্স স্পেশাল বাসে করে সাফারি পার্ক এর প্রবেশ মুখে পৌছাতে পারেন। ভাড়া ৬০-৭০ টাকা। সাফারি পার্ক এর প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। এই সাফারি পার্কটি ৯০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। আটটি ব্লকে ভাগ করে গড়ে তোলা এ পার্কে মুক্ত পরিবেশে হাঁটাচলা করা যায়, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনায়াসে বেড়ানো যায়।মোটামুটি ১:৩০-২ ঘন্টা হাটলে পুরোটা ঘুরে দেখতে পারেন। বাঘ, সিংহ, কুমির, ভাল্লুক, হরিণ, হাতি, বানর, হুনুমান, খরগোশ, অজগর ছাড়াও প্রায় ১৫০ প্রজাতির জীবজন্তু আছে এই পার্কে। পার্কের ভিতরে একটি লেক ও রয়েছে।

রামু বৌদ্ধ বিহার

কক্সবাজারে প্রবেশের আগে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র স্থান রামু। ১৬৬৬ সালে মুঘলরা যখন চট্টগ্রাম বিজয় করে তখন রামুতে গৌতম বুদ্ধের ১৩ ফুট উঁচু একটি ব্রোঞ্জমূর্তি পাওয়া যায়। যেটা এযাবৎকালে বাংলাদেশে উদ্ধারকৃত গৌতম বুদ্ধের সর্ববৃহৎ মূর্তি। রামুতে প্রায় ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে যেগুলোকে ক্যাং বা জাদী বলা হয়। পূর্ব রাজারকুল বৌদ্ধ বিহার, চাতোফা চৈত্য জাদি, উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞা বনবিহার সংলগ্ন মন্দির উল্লেখযোগ্য। উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়চূড়ায় ১০০ ফুট লম্বা গৌতম বুদ্ধের সিংহশয্যা মূর্তি দেখে থমকে দাঁড়াতে হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড়। এর দুই কিলোমিটার দূরে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে নতুন করে নির্মিত হয়েছে কেন্দ্রীয় সীমাবিহার। কিছুটা দক্ষিণে নজরকাড়া লালচিং ও সাদাচিং বৌদ্ধবিহার। আশপাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় বৌদ্ধবিহার।

মহেশখালী দ্বীপ

কক্সবাজার শহর থেকে সাগরের মধ্যে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মহেশখালী দ্বীপ।এটি বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ।বাংলাদেশের অন্যতম শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা মহেশখালী। এখানে আছে জলাভুমি আর প্যারাবন এবং প্রচুর অতিথি পাখি। এছাড়াও এখানে রয়েছে আদিনাথ মন্দির। মহেশখালী জেটিটি দেখতে খুবই সুন্দর।পান, মাছ, শুঁটকী, চিংড়ি, লবণ এবং মুক্তার উৎপাদনে সমগ্র বাংলাদেশে এই উপজেলার সুনাম রয়েছে। কক্সবাজার থেকে ৪-৫ ঘন্টা সময় ব্যায় করলেই মহেশখালী দ্বীপ থেকে ঘুরে আসতে পারবেন।পাহাড়িয়া দ্বীপ মহেশখালীতে রয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। সাগরের মধ্যে হাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ মন্দিরটি সারা বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি মহা পবিত্র স্থান। মহেশখালীর এই আদিনাথ মন্দিরটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৮৫.৩ মিটার উচুঁতে মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।

সোনাদিয়া দ্বীপ

সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলার একটি সুন্দর দ্বীপ। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কিমি। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিমি উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালি দ্বীপের দক্ষিনে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। একটি খাল দ্বারা এটি মহেশখালি দ্বীপ থেকে বিছিন্ন হয়েছে। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন এবং বিচিত্র প্রজাতির জলাচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।সোনাদিয়া দ্বীপ যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি।  আরো আছে বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি। এই দ্বিপে আছে অজস্র লাল কাঁকড়ার ছড়াছড়ি। মাছ ধরা এবং মাছ শুকানো, চিংড়ি ও মাছের পোনা আহরন দ্বীপের মানুষের প্রধান পেশা।চারিদিকে নোনা পানি বেষ্টিত হওয়ায় এই দ্বীপে তেমন কোন খাদ্য শষ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। দৈনন্দিন প্রয়োজনাদি জিনিস পত্র সব মহেশখালি থেকে ক্রয় করে আনতে হয়।

কুতুবদিয়া দ্বীপ

কুতুবদিয়া দ্বীপ প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি দ্বীপ। জেনারেটর ও সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে এখানকার বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে। এখানে আছে নানান বৈচিত্র্য।কুতুবদিয়ার সমুদ্র সৈকত উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। বেশিরভাগ এলাকাই বেশ নির্জন।কুতুবদিয়া সৈকতে প্রচুর গাংচিল ঘুরে বেড়ায় । নির্জনতার সুযোগে সৈকতের কোথাও কোথাও লাল কাঁকড়াদের দল ঘুরে বেড়ায় নির্ভয়ে। সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য কুতুবদিয়ার সৈকত আদর্শ জায়গা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র (প্রায় এক হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র), লবণ চাষ, বাতিঘর(সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের নাবিকদের পথ দেখাতে), কুতুব আউলিয়ার মাজারসহ আছে দেখার মতো অনেক কিছু আছে।

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত

বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্ব দক্ষিণে টেকনাফ উপজেলা। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে টেকনাফের দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার। টেকনাফ শহর ছাড়িয়ে দক্ষিণে আরও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। সাগর আর প্রকৃতির সাথে নির্জন সময় কাটাতে হলে একটু সময় করে ঘুরে যেতে পারেন টেকনাফের এই সৈকতটি।টেকনাফ সমুদ্র সৈকত  দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর সৈকত গুলোর একটি। । দীর্ঘ এ সৈকতে বেড়াতে ভালো লাগবে সবার। জেলেদের আনাগোনা এ সৈকতে বেশি। বিশেষ করে খুব সকাল কিংবা সন্ধ্যায় জেলেদের বেশি মাছ ধরতে দেখা যায় এ সৈকতে। এছাড়া দেশের অন্যান্য সৈকতগুলো থেকে একেবারেই আলাদা এ সৈকত। এত রঙিন বাহারি জেলে নৌকা বাংলাদেশের আর কোন সমুদ্র সৈকতে দেখা যায় না। যারা নির্জনে সমুদ্র উপভোগ করতে চান তাদের জন্য টেকনাফ আদর্শ জায়গা। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের তুলনায় টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের পানি অধিক পরিষ্কার।

মাথিনের কূপ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর কুল ঘেঁষে টেকনাফ থানা চত্ত্বরে মাথিনের কূপ অবস্থিত। আঠারো শতকের শেষ ভাগে টেকনাফে পানির অভাবের পূরণের জন্য মাত্র একটি সুপেয় পানির কূপ ছিল। থানা প্রাঙ্গণের এক কূপ হতে রাখাইন জমিদার কন্যা মাথিন প্রতিদিন জল নিতে আসতো।এভাবে ধীরাজের সাথে মাথিনের প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দুজনে বিয়ে করারও সিন্ধান্ত নেন। কিন্তু হঠাৎ করে কলকাতা থেকে আসা চিঠিতে ধীরাজকে জানানো হয় যে বাবা গুরুতর অসুস্থ আছেন। ফলে, কলকাতায় ফিরে যাবার প্রস্তুতি নেন ধীরাজ। কিন্তু মাথিন এতে রাজি ছিলেন না।তাই মাথিনকে না জানিয়ে ধীরাজ কলকাতা চলে যান। ভালবাসার প্রিয় মানুষটা চলে যাবার পর দীর্ঘ সময় প্রহর গুনতে গুনতে অনিদ্রা আর অনাহারে নিজের সুন্দর জীবনকে চিরতরে বিসর্জন দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রাখাইন জমিদার কন্যা মাথিন।পরবর্তীকালে তাঁদের অমর প্রেমের আত্মত্যাগের নিদর্শন হিসেবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জায়গাটি সংরক্ষণ করে একটিকে মাথিনের কূপ হিসেবে নামকরণ করেন। ২ এরপর থেকে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে সর্বত্র পরিচিতি পায়।পর্যায়ক্রমে মাথিনের কূপ অমর প্রেমের নিদর্শন হিসাবে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করে।

শাহপরীর দ্বীপ

শাহ পরী টেকনাফের সর্ব দক্ষিণে ভূ-ভাগের খুবই নিকটবর্তী একটি দ্বীপ। শাহ পরীর দ্বীপের বাম পাশে নাফ নদী। নদীর ঐ পারে বার্মা বা মায়ানমার সীমান্ত। পাহাড়-সমুদ্রের অনিন্দ্য সৌন্দর্যের এক বিস্তীর্ণ দ্বীপ শাহপরীর দ্বীপ(Shapuree Dbip) ।এটি মূলত সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এক সময় এটি দ্বীপ থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কিছুকাল আগে এটি মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। টেকনাফ উপজেলা শহর থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব প্রায় পনের কিলোমিটার। জনশ্রুতি আছে শাহসুজার স্ত্রী পরীবানুর ‘পরী’ ও শাহসুজার ‘শাহ’ মিলে এ দ্বীপের নামকরণ শাহপরীর দ্বীপ করা হয়েছে। আবার অন্য একটি মতে শাহ ফরিদ আউলিয়ার নামেই এ দ্বীপের নামকরণ।শাহপরীর দ্বীপের তিনটি সৈকতে গিয়ে দেখতে পাবেন সমুদ্রের রূপ। নির্জন দ্বীপ গোলার চরে দেখতে পারেন জোসনার লুকোচুরি। এখান থেকে দেখা যায় মায়ানমারের মঙডু প্রদেশ।একটু সামনে থেকে দেখা যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এখানে আছে বিডিআর চৌকি ও ওয়াচ টাওয়ার।

কক্সবাজার ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

সমুদ্রে নামার সময় জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিন। ভাটার সময় সমুদ্রে নামবেন না।

কোনোকিছু খাবার আগে অবশ্যই খাবারের দাম জেনে নিবেন।

রিকশা বা অটোরিকশায় উঠার আগে ভালোমতো দরদাম করে নিবেন।

অফসিজনে গেলে হোটেল ভাড়া কম পড়বে। ঈদ, পুজো বা এরকম টানা সরকারি ছুটির সময়ে কক্সবাজার না যাওয়াই ভালো। তখন অনেক বেশি ভিড় হয় বলে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবেন না। খরচও অনেক বেশি হবে।

ইনানী গেলে খালি পায়ে হাঁটা যাবেনা। কারণ প্রবাল অনেক ধারালো হয়।

বিচে অপচনশীল কোনোকিছু ফেলবেন না। শুধু বিচে নয় এমনকি আপনার শহরেও ফেলবেন না। এটা আপনার ব্যক্তিত্বকে রিপ্রেজেন্ট করে।

যেকোনো সহযোগিতার জন্য টুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিন।হটলাইন +০৮৮০১৭ ৬৯৬৯ ০৭৪০

দৃষ্টি আকর্ষণ: : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ তথা আমাদের দেশের সম্পদ। এসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, এবং অন্যদেরকেও এ বিষয়ে উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
bottom of page