

ইনানী সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও নয়নাভিরাম হচ্ছে ইনানী সমুদ্র সৈকত বা ইনানী বীচ (Inani Beach)। ভাটার সময় ইনানী সমুদ্র সৈকতে সেন্টমার্টিনের মত প্রবাল পাথরের দেখা মিলে। এখানে কক্সবাজারের মত সাগর এত উত্তাল থাকে না আর এই শান্ত সাগরই পর্যটকদের আরো বেশী বিমোহিত করে।এছাড়া টেকনাফ গামী মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে ইনানী বীচে যাবার সময় হিমছড়ির পাহাড়, সমুদ্র তীরের সাম্পান, নারিকেল ও ঝাউবন গাছের সারি আর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আপনার ভ্রমণের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে মন প্রফুল্ল হয়ে উঠবে।
কোথায় অবস্থিত
ইনানী বীচ কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে ও হিমছড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানকার প্রধান আকর্ষণ জীবন্ত প্রবল। অনেকটাই পাথরের মতো দেখতে এই প্রবল গুলো খুবই সুন্দর। কক্সবাজারের মতো এখানে বড় বড় ঢেউ নেই। ছোট ছোট ঢেউ এসে আছড়ে পরে পাথরের উপর। পানির উপর ভাসমান এইসব পাথরের উপর দাঁড়িয়ে পা ভেজাতে দারুন মজা।
কিভাবে যাবেন
ইনানী বীচ দেখতে হলে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে কক্সবাজার শহরে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার (Cox’s Bazar) বিভিন্ন উপায়ে আসা যায়।
কক্সবাজার যাওয়ার বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে ইনানী বীচ যাবার জন্য খোলা জীপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটো ইত্যাদি পাওয়া যায়। পছন্দ মতো দরদাম করে ভাড়া করে নিবেন। তবে খোলা জীপ বা চাঁন্দের গাড়িতে ঘুরেই বেশি মজা। ইনানী পর্যন্ত খোলা জীপ ভাড়া নিবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ১০ ঠিক ১২ জন অনায়াসে যেতে পারবেন। রিজার্ভ জীপ নিলে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা। একটি জীপে ১০-১৫জন অনায়াসেই ঘুরে আসা যায়। দু তিন জন হলে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও যেতে পারেন। সারাদিনের জন্য সে ক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১০০০-১২০০টাকা।এছাড়া লোকাল সিএনজি তে করে জনপ্রতি ৮০ টাকা ভাড়ায় ইনানী সী বিচ যাওয়া যায়।
কখন যাবেন
কক্সবাজারের মত সাগর এত উত্তাল থাকে না আর এই শান্ত সাগরই পর্যটকদের আরো বেশী বিমোহিত করে। সাধারণত বিকেল বেলায় ইনানী সৈকত ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। বিকেল বেলায় পর্যটক তুলনামূলক কম থাকে আর সাথে অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা পরবর্তীতে আপনার আফসুসের কারণ হতে পারে।
কোথায় থাকবেন
ইনানী বিচের আশেপাশে কিছু হোটল ও রিসোর্ট আছে। তার মধ্যে রয়েল ফাইভ স্টার টিউলিপ সী পার্ল রিসোর্ট, ইনানী রয়াল রিসোর্ট, লা বেল্যা রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য। তবে এখান থেকে কক্সবাজার অনেক কাছে হওয়ায় এখানে না থেকে কক্সবাজার এসে কোন হোটেলে থাকাই ভালো হবে।
কোথায় খাবেন
এই এলাকায় খাবারের জন্য ভালো মানের তেমন হোটেল বা রেস্টুরেন্ট নাই। আনায়াসেই ৫-৬ ঘন্টায় ইনানী বীচ থেকে ঘুরে আসা যায় তাই চাইলে হালকা শুকনো খাবার সাথে রাখতে পারেন কিংবা পুনরায় কক্সবাজার ফিরে খেতে পারেন। কক্সবাজারে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। চাইলে এসব রেস্টুরেন্টের যেকোনো একটাতে খেয়ে নিতে পারেন। তাদের মধ্যে পৌষি, ধানসিঁড়ি, রোদেলা, ঝাউবন, নিরিবিলি ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। সিজন অনুসারে এখানে খাবারের দাম কম বেশি হতে পারে। একটু দূরে হলেও পৌষিতে (প্রধান শহরে যেটা) একবার হলেও খাবেন। আশা করি অনেক ভাল লাগবে।
ইনানী সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ টিপস
অফসিজন গেলে বা ছুটির দিন গুলো পরিহার করে ভ্রমণে গেলে খরচ কম হবে।
যাতায়াত বা খাওয়া দাওয়ার জন্যে সবকিছুতেই ভালো করে দরদাম করে নিবেন।
চেষ্টা করুন বিকেলের সময়টা ইনানী বিচে কাটানোর।
হাতে সময় নিয়ে বের হন, মেরিন ড্রাইভ ও হিমছড়িতে চাইলে কিছু সময় ব্যয় করতে পারেন।
সিজনে (ডিসেম্বর-মার্চ) সরকারি ছুটির দিন ব্যাতিত দিন গুলোতে গেলে আগে থেকে হোটেল বুক করার প্রয়োজন হবে না।
রিক্সাওয়ালা ও ইজিবাইক চলকরা দালাল হোটেল রুম ঠিক করে দেবার জন্যে বলতে পারে, তাদের পরিহার করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ: : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ তথা আমাদের দেশের সম্পদ। এসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, এবং অন্যদেরকেও এ বিষয়ে উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
.png)
