top of page
A.jpg

রাঙ্গামাটি(Ragamati)

পাহাড়ের বুকে সূর্যালোক, ভরা পূর্ণিমা রাতে হ্রদের পানিতে মৃদু ঢেউয়ের উপর জোছনার ঝলকানি আর গিরি নির্ঝর ঝর্ণার রূপমাধূরী দেখেনি যে, সে যেন অপরূপ পাহাড়ি অরণ্যের জনপদ রাঙামাটি দেখেনি। এলোমেলো সারিতে সাজানো উঁচু-নিচু ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ের সমাবেশ। যে দিকে চোখ যায় স্বচ্ছ পানি আর বিস্তীর্ণ সবুজের হাতছানি। সে যে এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। বলছি, পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটির কথা।প্রকৃতির নিবিড় আলিঙ্গনে বাঁধা রূপের রানী রাঙামাটির পরতে পরতে রয়েছে সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যতা।

রাঙ্গামাটি  ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সারাবছরই রাঙ্গামাটিতে পর্যটক ঘুরতে আসে তবে, শীত আর বর্ষা হচ্ছে এখানে বেড়ানোর উপযুক্ত সময়। রাঙামাটি ভ্রমণে আপনি পাবেন উৎসবের আমেজ ও দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক পরিবেশ। তাই প্রতি বছর বর্ষা শেষেই ভ্রমণ পিয়াসী দেশী বিদেশী পর্যটকরা ভিড় জমান  এই  জেলায়। বছরের পাঁচ মাস এখানে পর্যটকে মুখরিত থাকে। বিশেষত বসন্তের উসৎবে মেতে ওঠার জন্য রাঙ্গামাটির মত প্রাকৃতিক পরিবেশ দুনিয়ার আর কোথাও নেই যেন! তাই যে কেউই পরিবার পরিজন বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে পারেন এখানে। জীবনে অন্তত একবার হলেও এখানে না গেলে যেন অনেককিছু দেখা থেকে বঞ্চিতই হতে হবে।

রাঙ্গামাটি ভ্রমণে যাবার উপায়

সড়কপথ এবং রেলপথ  যেকোন পথেই যেতে পারেন রাঙ্গামাটিযেতে পারেন। সড়কপথে ঢাকা সরাসরি থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়া যায়।  আর রেলপথ  ট্রেনে করে ঢাকা হতে চট্টগ্রাম গিয়ে  সেখান থেকে বাসে করে রাঙ্গামাটি যাওয়া যায়।

সড়কপথে

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে রাঙ্গামাটি সরাসরি গাড়ী চলে । ঢাকার কল্যাণপুর, কলাবাগান, আরামবাগ, মতিঝিল, সায়দাবাদসহ বেশ কয়েকটি স্থান থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর বাস যেমন শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, ডলফিন, এস আলম, সৈাদিয়া, সেন্টমার্টিন, বিআরটিসি ইত্যাদি সরাসরি রাঙ্গামাটির উদ্দেশে চলাচল করে। নন এসি বাসের ভাড়া পড়বে ৮০০-৯০০। এসি বাসের ভাড়া পড়বে ১৫০০-২০০০। সময় লাগতে পারে  ৭-৮ ঘন্টার মত।

রেলপথে

অনেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম যেয়ে তারপর সেখান থেকে রাঙ্গামাটি যেতে চান।

ঢাকা  থেকে প্রথমে  ট্রেনে   চট্টগ্রাম এবং পরে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাসে  রাঙ্গামাটি যাওয়া যায়।

ঢাকার কমলাপুর এবং বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চিটাগাং মেইল, তূর্ণা, নিশীথা ও চট্টগ্রাম মেইল আলাদা আলাদ সময় ছেড়ে যায়।ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী এবং ভাড়া জানতে পারবেন www.railway.gov.bd সাইট থেকে।ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী এবং ভাড়া জানতে পারবেন রেলওয়ের ওয়েব সাইট থেকে

 

চট্টগ্রাম  থেকে রাঙ্গামাটি

চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া যায় খুব সহজে। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৭৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটন শহর রাঙামাটি।চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙামাটি গামী বিভিন্ন পরিবহনের বাস পাওয়া যায়। এখান থেকে আধ ঘন্টার ব্যবধানে আপনি পাবেন পাহাড়ীকা ও লোকাল বাস সার্ভিস। পাহাড়ীকা বাসের ভাড়া ১৫০ টাকা এবং লোকাল বাসের ভাড়া ১০০ টাকা। পাহাড়ীকা বাসে সময় লাগে আড়াই ঘন্টা এবং লোকাল বাসে তিন থেকে সাড়ে তিন  ঘন্টা। সকাল ৭টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত পাওয়া যায় বাস। এছাড়া যারা আরামদায়ক ভ্রমন করতে চান, তাদের জন্য আছে বিলাস বহুল সার্ভিস এস. আলম, ইউনিক, হানিফ ও বিআরটিসি। এসব বাস সার্ভিসের ভাড়া ১৮০-২২০ টাকা। সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। এছাড়া নিজস্ব গাড়ী অথবা ভাড়া করা মাইক্রো, কার, ক্যাব নিয়েও আপনি যেতে পারবেন রাঙামাটি। ভাড়া পড়বে ২০০০-৪০০০ টাকা।

চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে বাসে চড়ার সময় বেতবুনিয়ায় পা বাড়ালেই রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। এ বেতবুনিয়ায় দেশের সর্বপ্রথম উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রটি অবস্থিত। এরপর রানীরহাট বাজার অতিক্রম করে সামনের দিকে তাকালে চোখে পড়বে সুউচ্চ অসংখ্য পাহাড়ের সারি। সামনের দিকে এবং দক্ষিণ-পূর্বে দন্ডায়মান অবস্থায় সবচেয়ে উচু যে পাহাড়টি চোখে পড়বে সেটি ফুরমোন পাহাড়। এটি রাঙামাটি শহরে অনতিদহৃরে অবস্থিত। এই পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে রাঙামাটি শহরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এর উচ্চতা ১হাজার ৫১৮ ফুট।

রাঙামাটিতে পর্যটকদের থাকার জন্য বেশ কিছু ভালমানের হোটেল আছে যেমন, তেমনি আছে মাঝারি মানের হোটেলও। ভালোমানের হোটেলের মধ্যে হোটেল সুফিয়া, নীডস হিল ভিউ, মোটেল জর্জ, হোটেল গ্রীন ক্যাসেল, শাইনিং হিল গেষ্ট হাউজ, টুকটুক ইকো ভিলেজ, হোটেল আনিকা অন্যতম। ভাড়া ৫০০টাকা হতে ২০০০টাকা পর্যন্ত। কমদামী হোটেলগুলোর মধ্যে আছে মধুমিতা, সৈকত, শাপলা, ডিগনিটি, সমতা, উল্লেখযোগ্য। এগুলো ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া পর্যটনের রয়েছে নিজস্ব মোটেল। ভাড়া ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। রয়েছে ছোট ছোট কটেজ। কটেজগুলোর প্রতি রাতের ভাড়া ৩০০০-৫০০০ টাকা। সরকারি বিভিন্ন দফতরের রেষ্ট হাউস, গেষ্ট হাউস এবং বাংলোগুলো নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ এবং অনুমতি সাপেক্ষে ভাড়া দেওয়া হয়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

ট্যুর প্ল্যান সাধারণত ভ্রমণকারীদের সময়, সুবিধা ও ইচ্ছের উপর নির্ভর করে। প্রথমবার বন্ধুবান্ধব কিংবা যারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বান্দরবান যাবেন তারা সহজেই বান্দরবানের জনপ্রিয় জায়গা গুলো ঘুরে মেঘ ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। আমাদের উদ্দেশ্য বান্দরবান ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে একটা ধারনা দেওয়া। চাইলে আপনি আপনার মত করে সাজিয়ে নিতে পারেন সবকিছু।

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ প্ল্যান (২ রাত ১ দিন)

এক্ষেত্রে প্ল্যান এমন হতে পারে-

১ম রাত:  বাসে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা।

১ম দিন:  ভোর ৪ টার মধ্যে রাঙ্গামাটি পৌছে যাবেন। হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিন। নাস্তার পরেই আমরা রওনা দিব রাঙ্গামাটির অন্যতম নয়নাভিরাম পাহাড়ের শুভলং ঝরনা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, পেদা টিং টিং সুটিং স্পট। দুপুরের খাবার শেষে রাঙ্গামাটি পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজ, পলওয়েল পার্ক। লাভ পয়েন্ট।  বিকালে চাকমা রাজবাড়ি, যেতে পারেন ফুরোমন পাহাড়। সন্ধ্যায় চাকমা উপজাতীয় বাজারে ঘুরে দেখা ও ব্যাক্তিগত বার্মিজ ও উপজাতীয় পণ্য কেনাকাটা।

 

২য় রাত: রাতে রাখাইন মার্কেট থেকে শপিং করতে পারেন। এরপর রাতের খাবার খেয়ে, বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা।

২ রাত ১ দিনের প্ল্যানে জার্নি খুব বেশি হবে। তাড়াহুড়ো করে দেখতে হবে স্পটগুলো, নইলে সবগুলো স্পট কভার করার সময় পাওয়া যাবেনা।

এক্ষেত্রে প্ল্যান এমন হতে পারে-

১ম রাত:  বাসে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা।

১ম দিন: সকালের মধ্যে রাঙ্গামাটি পৌছে যাবেন। হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট করে নিন।নাস্তা করে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে কাপ্তাই লেকের জলে ভাসতে ভাসতে দেখে নিন  রাঙ্গামাটির অন্যতম নয়নাভিরাম পাহাড়ের শুভলং ঝরনা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, পেদা টিং টিং সুটিং স্পট। দুপুরের খাবার শেষে রাঙ্গামাটি পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজ, পলওয়েল পার্ক। লাভ পয়েন্ট।  বিকালে চাকমা রাজবাড়ি, যেতে পারেন ফুরোমন পাহাড়। 

 

২য় দিন: সকালে হোটেল থেকে চেকআউট করে বেরিয়ে পড়ুন। গন্তব্যে ফেরার টিকেট কনফার্ম করে নিন। এরপর সিএনজি নিয়ে ঘুরতে পারেন আসাম বস্তি ব্রিজ, উপজাতীয় জাদুঘর, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু। লাঞ্চের পর চলে যান ডিসি বাংলো পার্ক। শেষ বিকেল আর সন্ধ্যাটা (ফেরার আগে যেটুকু সময় পাওয়া যায়) কাটাতে পারেন কাপ্তাই লেকের ধারে পলওয়েল পার্ক এ।

৩য় রাত:  রাতের খাবার খেয়ে, বাসে রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা।

এক্ষেত্রে প্ল্যান এমন হতে পারে-

১ম রাত:  বাসে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা।

১ম দিন: সকালের মধ্যে রাঙ্গামাটি পৌছে যাবেন।  হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট করে নিন।নাস্তা করে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে কাপ্তাই লেকের জলে ভাসতে ভাসতে দেখে নিন  রাঙ্গামাটির অন্যতম নয়নাভিরাম পাহাড়ের শুভলং ঝরনা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, পেদা টিং টিং সুটিং স্পট।দুপুরে ঊপজাতিয় বিশেষ আইটেমের খাবার পরিবেশনা। বিকেলে শুটিং স্পটে নিরিবিলি সময় কাটানোর সু-ব্যাবস্থা। রাতে কাপ্তাই লেকের পাশে নির্জন পরিবেশে আড্ডা শেষে খাবার ও হোটেলে ফেরা।

২য় দিন: সকালের নাস্তা শেষে পর্যটন ঝুলন্ত ব্রীজ রওনা,ঝুলন্ত ব্রীজ থেকে বেরিয়ে চাকমা রাজার বাড়ি ও বৌদ্ধ বিহার। দুপুরের খাবার শেষে ফুরোমন পাহাড়।উপজাতিয় যাদুঘর। ডিসি বাংলো পলওয়েল পার্কে বসে কাপ্তাই লেকের ঠান্ডা বাতাস উপভোগ।  বিকালে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি বাজার ঘুরে বেড়ানো

৩য় দিন: সকালে হোটেল থেকে চেকআউট করে বেরিয়ে পড়ুন। গন্তব্যে ফেরার টিকেট কনফার্ম করে নিন। এরপর সিএনজি নিয়ে ঘুরতে পারেন আসাম বস্তি ব্রিজ, উপজাতীয় জাদুঘর, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু। লাঞ্চের পর চলে যান ডিসি বাংলো পার্ক। শেষ বিকেল আর সন্ধ্যাটা (ফেরার আগে যেটুকু সময় পাওয়া যায়) কাটাতে পারেন কাপ্তাই লেকের ধারে পলওয়েল পার্ক এ।

৪থ রাত:  রাতের খাবার খেয়ে, বাসে রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা।

শহরের কলেজ গেইট এলাকা থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট ও বিভিন্ন পর্যটন স্পটে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান। কম মূল্যে তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করা যাবে বনরূপা ও রিজার্ভ বাজার এলাকায়। একটু উন্নতমানের খাবারের জন্য রয়েছে বিভিন্ন নাম করা রেস্তোরা। তবে দাম একটু বেশি। আবার পাহাড়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও রয়েছে রেস্টুরেন্ট। যেখানে পাওয়ায় পাহাড়িদের খাবার এর মধ্যে অণ্যতম চিকেন গুদাইয়া (চাকমারা বিশেষ প্রদ্ধতিতে বাঁশে বিতর মুরগির মাংশ রান্না করে থাকে)। পর্যটদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এ চিকেন গুদাইয়া।

রাঙ্গামাটি দর্শনীয় স্থান/ রাঙ্গামাটি কোথায় কী দেখবেন

ভ্রমনপিয়াসুদের নিকট স্বর্গরাজ্য দেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত জায়গা গুলির মাঝে রাঙ্গামাটি অন্যতম। প্রকৃতি, লেক, ঝরনা, পাহাড়, নীল আকাশ সবকিছু মিলিয়ে আশ্চর্য রকমের মন শীতল করার মত স্থান এটি। চলুন জেনে নেয়া যাক রাঙ্গামাটির সকল দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে।

এক নজরে রাঙ্গামাটি দর্শনীয় স্থানসমূহ

রাঙামাটিতে ভ্রমণ করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে  কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট,নৌ বাহিনীর পিকনিক স্পট বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর সমাধিস্থল,  হ্যাপি আইল্যান্ড,  লেকভিউ আইল্যান্ড,  পলওয়েল পার্ক, বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্ম, ডলুছড়ি জেতবন বিহার, তিনটিলা বনবিহার, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রকাপ্তাই জাতীয় উদ্যান কাপ্তাই হ্রদের ছোট ছোট দ্বীপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।  

 

এছাড়াও আরো দর্শনীয় স্থান হল সাজেক ভ্যালি, কাট্টলী বিল,  চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, ওয়াগ্গা চা এস্টেট, আর্যপুর ধর্মোজ্জল বনবিহার,  হাজাছড়া/শুকনোছড়া ঝর্ণা, সিজুক ঝর্ণা ১ ও ২, কমলক/সিকাম তৈসা ঝর্ণা,  ধূপপানি ঝর্ণা,  ধুলোবন ছড়া/সাদরা ট্রেইল,  মুপ্পোছড়া ঝর্ণা,  ন-কাটা ছড়া ঝর্ণা,  তুই-কু-তুমু ঝর্ণা,  গাছকাটা ঝর্ণা,  ঘাগড়া/কলাবাগান ঝর্ণা,  রাইংখ্যং পুকুর, যমচুক পাহাড়, ফুরোমন পাহাড়, কংলাক পাহাড়,  রঙরাং পাহাড়।

রাঙ্গামাটি শহর থেকে জেলাটির সবকয়টি দর্শনীয় স্থানে কীভাবে যেতে পারেন সে সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

কাপ্তাই লেক

রাঙামাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই লেক। চারপাশের সবুজ আবহ আর উচু উচু পাহাড় এর সৌন্দর্য অনেকগুনেই বাড়িয়ে দেয়। পুরো হ্রদের আয়তন প্রায় ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার। রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় করে কাপ্তাই লেকে যেতে পারবেন।আপনি কি সর্বদা অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে থাকা ভ্রমণপিপাসু মানুষ? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে কাপ্তাই লেকে কায়াকিং অথবা নৌকা ভ্রমণ আপনাকে দেবে অন্যরকম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। স্বর্গীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রায় সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে সমতলভূমি আর পাহাড়ি বনে ঘেরা মানবসৃষ্ট কাপ্তাই লেকে। জলপথে ভ্রমণের মাধ্যমে ঘুরে দেখতে পারবেন কাপ্তাই বাঁধ, রাঙামাটি শহর, রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, নৌবাহিনী একাডেমি, শুভলং ঝর্ণা, কর্ণফুলী নদী, শেখ ইকোপার্কসহ মনোরম সব পর্যটন কেন্দ্র। করে। তবে এ হ্রদের প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যেতে হলে আপনাকে ভাড়া করতে হবে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। চিন্তা নেই, শহরের রিজার্ভ বাজার ঘাটে পাওয়া যায় কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের নানা রকম ইঞ্জিন নৌকা। সারাদিন কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভাড়া পড়বে ১৫০০-২৫০০ টাকা। এছাড়া রাঙামাটি শহর থেকে এখন প্রতিদিন শুভলং ছেড়ে যায় আধুনিক ভ্রমণতরী কেয়ারি কর্ণফুলী। প্রতিদিন সকালে ছেড়ে আবার বিকেলে ফিরে আসে। যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। তবে কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের জন্য নৌকাটি দেখে-শুনে নিন। বর্ষাকাল থাকায় ছাউনি আছে এমন বোট ভাড়া করুন। বোটে লাইফ জ্যাকেট আছে কিনা আগেই জেনে নিন।

শুভলং ঝর্ণা

রাঙামাটি শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে শুভলং বাজারের পাশেই শুভলং ঝর্ণার অবস্থান। শুকনো মৌসুমে পানি কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু শুভলং ঝর্ণা থেকে বিপুল জলধারা আছড়ে পড়ে কাপ্তাই লেকে। এ ছাড়া শুভলং ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার পথে এর আশপাশের সৌন্দর্যও বিমোহিত করবে আপনাকে। শুভলং ঝর্ণার কাছেই রয়েছে সুউচ্চ শুভলং পাহাড়। শহর থেকে শুভলং ঝর্ণায় যেতে হলে নৌ পথে যেতে হয়। স্পিডবোটের মাধ্যমে কাপ্তাই লেক ভ্রমণের মধ্য দিয়ে আপনি এই জায়গাটি ঘুরে দেখতে পারেন। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার বা পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে আপনি স্পিডবোট ভাড়া করতে পারবেন। ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এর ভাড়া পড়বে এক হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত।  এছাড়া রাঙামাটি শহরের পর্যটন ঘাট, বনরুপা, রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করে সুবলং যেতে হবে। শহর থেকে ঝর্ণায় পৌছাতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘন্টা। নৌকার ভাড়া নেবে দেড় থেকে আড়াই হাজার থাকা। ভাড়া নির্ভর করবে নৌকার আকার অনুযায়ী। অর্থাৎ বড় নৌকার ভাড়া বেশী, ছোট নৌকার ভাড়া কম।রিজার্ভ অথবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ারেও ভাড়া নিতে পারেন নৌকা। রাঙামাটি থেকে শুভলং পৌঁছাতে সাধারণত দেড় ঘণ্টা মতো সময় লাগে। বর্তমানে এ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এরপরও ঝর্ণার সৌন্দর্য পর্যটকদের মন ভরিয়ে দিতে যথেষ্ট। পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসা ঝর্ণার পানি পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য না দেখলে বলে বোঝানোর নয়। ইচ্ছে করলে স্নাণ করতে পারেন ঝরনার শীতল পানিতে। ক্যামেরা থাকলে ঝটপট তুলে নিতে পারেন দুর্লভ কিছু ছবিও। ঝর্ণা দেখা শেষ হলে কিছুক্ষণের জন্য সুভলং বাজার ঘুরে আসতে পারেন। এখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টিন রয়েছে। চাইলে সেখানে সেরে নিতে পারেন চা-নাস্তা পর্ব।

রাজবন বিহার

রাঙামাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি এখানকার প্রকৃতির পবিত্রতা অনুভব করতে পারবেন, যা আপনার মনের সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করতে সাহায্য করবে। মনকে আরো প্রশান্তি দিতে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটির অন্যতম প্রাচীন বৌদ্ধবিহার রাজবন বিহার থেকে। রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিহারটি অবস্থিত হলেও শহরের যান্ত্রিক কোলাহল এখানে অনুপস্থিত। কাপ্তাই লেক আর পাহাড়ের সবুজ বনানীর ছায়ায় ঘেরা রাজবন বিহার। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে জলপথে বা স্টেডিয়ামের পার্শ্ববর্তী সড়কপথে অল্প সময়েই যাওয়া যায় রাজবন বিহারে। রাঙামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজ বনবিহার। এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রধান তীর্থ স্থান এটি। এখানে আছে একটি প্রার্থনালয়, একটি প্যাগোডা, বনভান্তের (বৌদ্ধ ভিক্ষু) আবাসস্থল ও বনভান্তের ভোজনালয়। প্রতি শুক্রবার ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখানে চলে প্রার্থনা। রাজ বনবিহারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন কাপ্তাই লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। রাজবনবিহারের পাশেই কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপজুড়ে রয়েছে চাকমা রাজা দেবাশিষ রায়েররাজবাড়ি। এখানে আরও রয়েছে চাকমা সার্কেলের প্রশাসনিক দফতর ।প্রতিবছর পূর্ণিমা তিথিতে রাজবন বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট জাদুঘর 

আদিবাসীদের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট জাদুঘর থেকে। রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদি নামক স্থানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের অভ্যন্তরে এ জাদুঘরটি অবস্থিত। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজাতীয় মানুষের মধ্যে বহুকাল ধরে প্রচলিত যেসব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি রয়েছে, তার সংরক্ষণ ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে এই জাদুঘর গড়ে তোলা হয়। এখানে পার্বত্য অঞ্চলে ববাসরত উপজাতি সমূহের ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যাবে। জাদুঘরে রক্ষিত উপজাতীয়দের বিভিন্ন যে কাউকে মুগ্ধ করে সহজে। এছাড়াও জাদুঘরের অভ্যন্তরে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমূহের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। এর ভবনটি অনন্য আধুনিক স্থাপত্য কলায় নির্মিত। যাদুঘরটি সকলের জন্য উম্মুক্ত হলেও এখানে ঢুকতে মাত্র পাচঁ টাকা টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকতে পারবেন। এ যাদুঘরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, পোষাক-পরিচ্ছদ, বাদ্যযন্ত্র, ব্যবহার্য তৈজষপত্র, অস্ত্র-শস্ত্র, প্রাচীন মুদ্রা, প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ, পুঁতিপত্র, তৈলচিত্র ও উপজাতীয় জীবনধারার বিভিন্ন আলোকচিত্র রয়েছে। ১৯৭৮ সালে স্থাপিত এই জাদুঘর রাঙামাটি শহরের প্রবেশমুখের কাছেই অবস্থিত। শহর থেকে রিকশায় করেই যাওয়া যায় এখানে।

ঝুলন্ত সেতু

রাঙামাটি শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ঝুলন্ত সেতু।রা। শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই লেকের একাংশে ৩৩৫ ফুট লম্বা এই ব্রিজটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এই সেতুকে ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ বলা হয়ে থাকে । শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে রিজার্ভ বাজার ছাড়িয়ে আরও প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রয়েছে পর্যটন কমপেস্নক্স। এই কমপেস্নক্সের ভেতরেই রয়েছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুটি। সেতু পেরিয়ে সামনের পাহাড়ে উঠলে কাপ্তাই লেকের বড় অংশ দেখা যায়।এই সেতুতে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। ব্রিজের এক পাশে পাহাড়ের উপর শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপার ইত্যাদি। লেকে ভ্রমণের জন্য ব্রিজের নিচে ইঞ্জিন চালিত বোট ঘন্টা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। ঝুলন্ত ব্রিজে প্রবেশের জন্য পর্যটন কর্পোরেশনকে জনপ্রতি ২০ টাকা ফি দিতে হয়। রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়িতে নেমে অটোরিক্সা বা সিএনজিতে করে সরাসরি ঝুলন্ত ব্রিজে যাওয়া যায়। তবলছড়ি থেকে ঝুলন্ত ব্রিজে সিএনজি ভাড়া লাগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর রাঙ্গামাটির বনরূপা থেকে সিএনজি ভাড়া লাগে ১২০ টাকা।

 ডিসি বাংলো 

রাঙামাটি শহরের জিরো পয়েন্টে কর্ণফুলী হ্রদের গা ঘেঁষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের বাংলো।। বাংলোর সামনেই কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে জেলা প্রশাসনের প্রায় তিন একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো পার্ক। সংযোগ সড়ক ছাড়া বাংলোর তিনদিকেই ঘিরে রেখেছে হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি। । এটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর একটি বাংলো। এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। শীতের সময় একানে অতিথি পাখি দেখা যায়। বাংলোর ভিতরে "কোচপানা" নামে একটি জায়গা আছে। মূল বাংলো হতে এ অংশটি বিচ্ছিন্ন। মূল বাংলোর সাথে একটি নয়নাভিরাম ব্রিজের মাধ্যমে কোচপানা সংযুক্ত। এ জায়গাটি যে কাউকেই মুগ্ধ করে। পড়ন্ত বিকেলে কিংবা শিশিরভেজা ভোরে কিংবা পূর্ণিমা রাতে এখান থেকে হ্রদের সৌন্দর্য স্বর্গীয় বলে অনুবূত হয়। ডি সি বাংলোতে রয়েছে একটি যাদুঘর। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ঐতিহ্য এতে সংরক্ষিত আছে। ডি সি বাংলোতে প্রবেশ করতে হলে অনুমতি নিতে হবে। কোন প্রবেশ মূল্য লাগে না। ডি সি বাংলোর বাইরেও রয়েছে একটি পার্ক, যেকানে রয়েছে একটি ঘাট ও বসার জায়গা, যেখান থেকে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য বেশ বাল প্রষ্ফূটিত হয়। এখানে আছে তিনশত বছরের পুরনো একটি চাঁপালিশ বৃক্ষ। শহরের যে কোন জায়গা হতে অটোরিক্মা বা প্রাইভেট গাড়ি বা নৌপথে রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলোতে আসা যায়।

পলওয়েল পার্ক এন্ড কটেজ

পলওয়েল পার্ক এন্ড কটেজটি  রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ডিসি বাংলো রোডের পাশে কাপ্তাই লেকের ঠিক কোল ঘেঁষে তৈরি করা হযেছে যা সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটির অন্যতম সেরা বিনোদন কেন্দ্র। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে এবং চিত্ত বিনোদনের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পলওয়েল পার্ক। পার্কটির প্রবেশমূল্য, জনপ্রতি ৩০ টাকা। পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য টিকেট লাগবেনা। পার্কটি রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে কিডস জোন। শিশুদের আনন্দ দিতে এই পার্কে বিভিন্ন রকম রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। টিকেটের মূল্য রাইড ভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। টিকেটের দামের তুলনায়, অনেক বেশি সময় ধরে বাচ্চারা এখানে রাইডগুলো উপভোগ করতে পারে।কিডস জোন থেকে সামনে এগিয়ে গেলে রাস্তার পাশে বসার জন্য কিছু বেঞ্চ তৈরী করা আছে। এখানে বসলে কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। সামনে যতদূর দৃষ্টি যায়, লেকের অথৈ জলের সীমানা দূরের আকাশে গিয়ে মিশেছে। আকাশ আর লেকের নীলের মাঝে পাহাড়গুলো যেন সীমারেখা হয়ে আছে। পলওয়েল পার্ক এর একেবারে শেষপ্রান্তে তৈরী করা হয়েছে লাভ পয়েন্ট। এছাড়াও পার্কটিতে রয়েছে পলওয়েল পার্ক কটেজ এবং সুইমিং পুল। লেকে ঘোরার জন্য বোটের ব্যবস্থা আছে, আছে জেট স্কিইং এর ব্যবস্থা, আছে কায়াকিং এর ব্যবস্থা। লেকের পার ঘেঁষে রাখা আছে বিচ চেয়ার। লেক আর পাহাড়ে সন্ধ্যা নামার দৃশ্য উপভোগ করতে শেষ বিকেলে এখানে বসতে পারেন আয়েশ করে।

পেদা টিং টিং

পেদা টিং টিং একটা চাকমা শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান। অর্থাৎ মারাত্মকভাবে খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা থাকে, সেটাকেই বলা হয় পেদা টিং টিং। রাঙ্গামাটি শহর থেকে মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই হ্রদের ভসমান একটি পাহাড়ে অবস্থিত এই পেদা টিং টিং। রসনাবিলাসী ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য চমৎকার এক রেস্তোরাঁ এটি। এখানকার আদিবাসীদের রান্না করা (বাম্বু চিকেন, বিগল বিচি, কচি বাঁশের তরকারী, কেবাং, কাঁচকি ফ্রাই) খাবারগুলোর স্বাদ অতুলনীয়।  কাপ্তাই লেক ভ্রমণে গেলে পেদা টিং টিং-এর খাবারের স্বাদ না নিলে আপনার ভ্রমণ থেকে যাবে অসম্পূর্ণ। রেস্টুরেন্টটি দেশীয় খাবার  এখানে রেস্তোরা, কটেজ, নৌবিহার ব্যবস্থা, সেগুন বাগান ও অসংখ্য বানর রয়েছে। ইচ্ছে করলে মনোজ্ঞ কোন অনুষ্ঠানও আয়োজন করা যায়। শুধু তাই নয় আপনি চাইলে রাত্রিযাপনও করতে পারবেন। এখানে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি কক্ষ সদৃশ ঘর। রাঙ্গামাটি শহর থেকে পেদা টিং টিং (Peda Ting Ting) যেতে হলে নৌ পথে যেতে হয়। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার রিজার্ভ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।  রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার এলাকা থেকে অথবা পর্যটন এলাকা থেকে ট্রলার রিজার্ভ করা যায়। এগুলোর ভাড়া আকার অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। 

টুকটুক ইকো ভিলেজ

 চারদিকে কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ পানি রাশির মাঝে হঠাৎই জেগে ওঠা সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলা এই ভ্রমণ স্পটে খানিক বসতেই নিমিশেই হিমেল হাওয়ার ঝাপটা নিয়ে যাবে কোনো এক স্বর্গীয় অনুভূতির সন্ধানে। কাপ্তাই লেকে দীর্ঘ নৌভ্রমণে যখন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থা, তখন টুক টুক ইকো ভিলেজের রেস্তোরাঁর রকমারি খাবারের স্বাদ গ্রহণ জিবে এনে দেয় নতুন তৃপ্তি। কাঠ এবং বাঁশের কারুকাজে তৈরি এ রেস্তোরাঁয় মিলে দেশীয় ও পাহাড়ি আদিবাসীদের মজাদার সব খাবারের আইটেম।  পুরো ইকো ভিলেজটি ৫০ একর পাহাড়ি জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বহু টিলা-উপটিলা বিভক্ত এ পর্যটন কেন্দ্রে থেকে থেকে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি কাঠের কটেজ। অ্যাটাশ বাথ, ব্যালকনি-সমেত এ কটেজগুলোয় থাকার জন্য রয়েছে সুব্যবস্থা। জানালার ফাঁকগলিয়ে দূরে পাহাড়ের ঢালে কাপ্তাইয়ের পানিতে পূর্ণিমার চাঁদের খেলা করার দৃশ্য অসাধারণ। রাতে পাহাড়ি বন-বনানীর মাঝ থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝি পোকার একটানা ডাক সঙ্গে নাম জানা-অজানা নিশাচর পশু-পাখির বিচিত্র শব্দে কেবলই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতে চায় মন। পর্যটকদের অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে আছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক পরিবেশে আড্ডা দেয়ার জন্য ইকো ভিলেজে তৈরি করা হয়েছে ১৫টি গোলঘর। শিশুদের আনন্দ দিতে প্রশস্ত খেলার মাঠ, কাঠের ব্রিজ সবই আছে এখানে। চারদিকে পাহাড়ি গাছ-গাছালি ছাড়াও ইকো ভিলেজের চড়াই-উত্রাইয়ে থেকে থেকে লাগানো হয়েছে নানান রকমের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, আফ্রিকান গাদায় ভরপুর পার্কটিতে পা ফেললেই বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসা কোমল গন্ধে মন জুড়িয়ে যায়। রাঙামাটি শহর থেকে টুক টুক ইকো ভিলেজে যাওয়ার জন্য শহরের রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে রয়েছে নিজস্ব বোটের ব্যবস্থা। জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা।

লেক ভিউ আইল্যান্ড 

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের পাড়ের ছোট ছোট টিলা ঘেরা একটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পেই গড়ে তোলা হয়েছে লেক ভিউ আইল্যান্ড। পাশাপাশি দুটি টিলার চার একরের অধিক এলাকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে পর্যটন এলাকাটি। নৌকা নিয়ে হ্রদের পানিতে ঘুরতে বের হলে চোখে পড়বে পাহাড়ি টিলার গায়ে বড় আকারের ইংরেজি অক্ষরে লেখা LAKE VIEW ISLAND. পানি থেকে টিলার উপরে যাওয়া ইট কংক্রিটের তৈরি সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই দেখা মিলবে চারপাশে সবুজ গাছে ঘেরা কটেজ। নামকরণ হয়েছে ‘রিসোর্ট কর্ণফুলী’। রিসোর্টের শুরুতেই কাচে ঘেরা ‘গ্লাস হাউসে’ বসে হ্রদের সৌন্দর্য দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে সোফায় গা এলিয়ে দিলে কেবলই প্রশান্তি। হ্রদের বুক চিরে চলে যাওয়া ছোট ছোট নৌযান আর পাহাড়ের সারি দেখতে দেখতে মন ভালো হয়ে যায়। কটেজ পার হয়ে পা বাড়াতেই চোখে পড়বে পানিতে ভাসমান কাঠের তৈরি বিশাল ‘বজরা’।  এতে রয়েছে বেতের তৈরি দুটি ডাবল খাট, সঙ্গে লাগোয়া টয়লেট। ছয়জনের রাতযাপনের ব্যবস্থা আছে এতে। শয়নকক্ষে আছে কুলার মেশিন। বারান্দায় এক সেট সোফায় বসে কিংবা ছাদে উঠে চা পান করতে পারেন আয়েশি ভঙ্গিতে। লেক ভিউ আইল্যান্ড ছাড়াও কাপ্তাই হ্রদের ঐতিহাসিক বাঁধের সাথে লাগোয়া টিলায় রয়েছে ‘হিলটপ রিসোর্ট’ নামে একটি কটেজ। হিলটপের জানালা দিয়ে দেখা যাবে কাপ্তাই বাঁধের স্লুইস গেট, কাপ্তাই বাঁধ আর হ্রদের জলরাশি। ইচ্ছে করলে রিসোর্টের পাশে সুইমিংপুলে ডুব দেওয়া যাবে। ইয়েলো ও অরেঞ্জ জোন নামে দুটি টিলায় শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়ছে কিডস কর্নার। রয়েছে গাছের উপর মাচাংঘর (ট্রি হাউস)। একটি মাচাং থেকে অন্য মাচাংয়ে যেতে তৈরি করা হয়েছে ঝুলন্ত সেতু। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার পার্ক।লেকভিউ আইল্যান্ড রিসোর্টে যাওয়ার জন্য কাপ্তাই বাঁধের সংরক্ষিত এলাকার সামনে নামতে হবে। এরপর সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে হিলটপ অবকাশকেন্দ্রে যেতে সময় লাগবে ১০ মিনিট।

আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট

রাঙামাটি শহরের সেনানিবাস এলাকায় অপরুপ সুন্দর ছায়া ঘেড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট (Aronnak Holiday Resort) যেন শিল্পির তুলিতে আকা নিখুদ একটি ছবি। অপূর্ব সুন্দর কাপ্তাই হ্রদ ঘেরা এ রিসোর্টের ছিমছাম পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। মন ভুলানো এ রিসোর্টের প্রধান আকর্ষণ এর পরিবেশ ও কাপ্তাই লেকের নীল জলে প্যাডেল বোটে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো।‌ যেকোন দিন পুরো পরিবার নিয়ে ঘুরে আসার জন্য এই রিসোর্টটি। কাপ্তাই লেকের অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে দারুণ কিছু সময় কাটবে আপনার এখানে। আর যদি সেটা কোন পুর্নিমার রাত হয় তবে তো কথাই নেই। দিনের বেলায় যেমন সুন্দর তেমনি দুর্দান্ত তার রাতের পরিবেশও। এই রিসোর্ট সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও কোন সমস্যায় পরতে হয় না। আরণ্যক রিসোর্টের প্রথম অংশে আছে নান্দ্যনিক ফুলের বাগান, নানা রকম ভাস্কর্য, রিসোর্ট, স্পিডবোট ও প্যাডেল বোটে চড়ার সুবিধা এবং কফি শপ। রিসোর্ট রুম বুকিং ছাড়াও চাইলে আপনি আরণ্যক রিসোর্ট এর সবকিছু ঘুরে দেখতে পারবেন। এজন্যে প্রবেশ টিকেট মূল্য ৫০ টাকা। আরণ্যক হলিডে রিসোর্টের দ্বিতীয় অংশের হ্যাপি আইল্যান্ডে আছে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, পার্ক, রাইডার, বোট রাইডিং এবং লেকভিউ সুইমিং পুল। হ্যাপি আইল্যান্ডের ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ১৫০ টাকা। প্রতি সোমবার শুধুমাত্র দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশ বন্ধ থাকে।

বান্দরবান ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

কম খরচে বান্দরবান ঘুরতে চাইলে অফসিজন বা ছুটির দিন ব্যাতিত অন্যদিন ভ্রমণ করুন।

ট্রেকিং এর জন্যে সুবিধাজনক জুতা, ভালো ব্যাগ এবং জামাকাপড় ব্যবহার করতে হবে। আর অবশ্যই ব্যাগ এত ভারি করা যাবেনা। কারণ ব্যাগ আপনাকেই বহন করতে হবে। যত কম কিছু নেওয়া যায় ততই ভালো হবে আপনার জন্যে।

নিজের প্রয়োজনীয় ওষুধ, ফার্স্ট এইড বক্স, কিছু শুকনো খাবার সাথে করে  নিয়ে নিবেন। এছাড়া স্যালাইন, গ্লুকোজ অনেক কাজে দিবে।

পাহাড় যেতে হলে দীর্ঘ পথ ও দীর্ঘ সময় ট্রেকিং করতে হয়। এবং যাত্রাপথে বিশাল সব পাহাড় খাড়া উঠা ও নামা লাগে। তাই আগে যদি ট্রেকিং এর অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে ভাল করে জেনে বুঝে তারপর যাওয়া উচিত।

ট্রেকিং এর সময় সাথে পর্যাপ্ত পানি রাখুন। পানি শেষ হয়ে গেলে কোন ঝিরি তে বোতল ভরে নিন।

সব মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না, টেলিটক ও রবির নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।

আদীবাসী মানুষের জীবন যাত্রা সমতলের মানুষের মত নয়। আদীবাসিদের অসম্মান হয় এমন কিছু দয়া করে করবেন না।

পর্যটন স্পট গুলোর পরিবেশের ক্ষতি এমন এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। মবিস্কিক, চিপস, চকলেট, স্যালাইন এর প্যাকেট, পলিথিন জাতীয় কিছু ও ময়লা আবর্জনা দয়া করে সেখানে সেখানে ফেলবেন না।

দৃষ্টি আকর্ষণ: : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ তথা আমাদের দেশের সম্পদ। এসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, এবং অন্যদেরকেও এ বিষয়ে উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ................

১। গাড়িতে বা ভ্রমনকালে অপরিচিত কারো দেয়া কিছু খাবেন না।

২। প্রদত্ত সকল তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা দেশের বর্তমান বাস্তবিক এবং প্রাকৃতিক অবস্থা অনুযায়ী।

৩। ভ্রমণের সময় অনাকাঙ্খিত যে কোন বিপদ হতে রক্ষা পেতে অবশ্যই প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অভিজ্ঞ গাইড সাথে নেয়া আবশ্যক।

৪। দক্ষ ও অভিজ্ঞ টুরিস্ট গাইডার ব্যাতিত ব্যাক্তিগত ভাবে ভ্রমণে যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার জন্য আমাদের ট্রাভেল এজেন্সি কোন ভাবেই দায়ী নয়।

৫। ভ্রমনকালীন সময়ে উপজাতীয় কোন ছেলে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করবেন না।

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
bottom of page