

নীলগিরি(Nilgiri)
বাংলার দার্জিলিং খ্যাত নীলগিরি (Nilgiri) পাহাড় এবং পর্যটন কেন্দ্র প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এক মেঘের রাজ্য। এটি দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি।সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরিতে এর অসাধারণ সৌন্দর্য যে কাউকেই বিমোহিত করবে ।মেঘ ছোঁয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসুন মেঘের নীলিগিরি ।এখানে মেঘ নিজে এসে ধরা দেবে আপনার হাতে। মাথার উপর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা খেলা করে নীলগিরির পাহাড়ে। অপরূপ সৌন্দর্য্যের এক নীলাভূমি এই নীলগিরি যেন প্রকৃতির এক অনন্য দান।
নীলগিরি কোথায় অবস্থিত
বাংলার দার্জিলিং খ্যাত নীলগিরি বাংলাদেশের বান্দরবন জেলায় বান্দরবন-থানচি সড়কে অবস্থিত । এটি একটি উঁচু পাহাড় এবং পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়টি বান্দরবন জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ২২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। নীলগিরি থেকে চারপাশে চোখ মেলে তাকালে সারি সারি মেঘের পাহাড়ে আছড়ে পড়া ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য আপনাকে বিমোহিত করবে। নীলগিরির চূড়া থেকে পাহাড়ের সারির পাশাপাশি আকাশ পরিস্কার থাকলে আপনার চোখে পড়বে বগালেক, বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ পাহাড় চূড়া কেওক্রাডং, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও সাঙ্গু নদী। এছাড়াও নীলগিরির কাছের আদিবাসী গ্রাম থেকে পরিচিত হতে পারেন তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে। নীলগিরিতে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কোন বিভ্রান্তির কারণ নেই । তাই পরিবার নিয়ে অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারেন বাংলার দার্জিলিং খ্যাত নীলগিরি।
নীলগিরি কখন ভ্রমণে যাবেন
নীলগিরি সারাবছরই তার রুপ ছড়াতে থাকে। এই রোদ এই মেঘ এই বৃষ্টি এভাবেই প্রকৃতি রুপ বদলাতে থাকে নীলগিরিতে। একেক সময় একেক রুপ ধারণ করে নীলগিরি। সকালে মেঘের ভেলার খেলা, সূর্যোদয়ের আলোর খেলা। বিকেলের সূর্যাস্ত কিংবা জ্যোৎস্না রাতের মায়াময় চারপাশ আপনাকে মুগ্ধ হতে বাধ্য করবেই। সাধারণত বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে মেঘের ভেলার লুকোচুরি খেলা প্রত্যক্ষ করা যায় সুন্দর করে। আর এই জন্যে নীলগিরিতে খুব সকালে যেতে হবে। শরৎ আর হেমন্তের মেঘ আর নীল আকাশ মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে। শীতে কুয়াশার চাদরে মুড়ে থাকে চারপাশ। সে এক দেখার মত দৃশ্য। তবে বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত ও শীতে মেঘের মেলা বসে। তাই নীলগিরি যেকোন সময়ই যেতে পারবেন। তবে বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে পাহাড় ধসের ভয় থাকে। তাই এই সময়টায় পর্যটকদের সুবিধার জন্য রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে।
নীলগিরি ভ্রমণে যাবার উপায়
নীলগিরি যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে বান্দরবান শহরে। ঢাকা থেকে বান্দরবান বিভিন্ন উপায়ে আসা যায়।
ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান
রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে বান্দরবান সরাসরি গাড়ী চলে ।ঢাকার কল্যাণপুর, কলাবাগান, আরামবাগ, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি স্থান থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর বাস যেমন শ্যামলী,হানিফ,ইউনিক, ঈগল, টিআর,মর্ডান লাইন,স্টার লাইন,এস আলম, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, সৈাদিয়া, সোহাগ, গ্রীন লাইন, দেশ ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন পরিবহন ইত্যাদি সরাসরি বান্দরবানের উদ্দেশে চলাচল করে। নন এসি বাসের ভাড়া পড়বে ৬০০-৮০০। এসি বাসের(ইকোনমি ক্লাস) ভাড়া পড়বে ১০০০-১২০০।এসি বাসের((বিজনেস ক্লাস) ভাড়া পড়বে ১৫০০-২০০০।সময় লাগতে পারে ৬-৭ ঘন্টার মত।
ঢাকা থেকে প্রতিদিনই অনেক বাস পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯), গ্রীন লাইন পরিবহন (০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১), সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭), শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪), এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০), সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮), টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪।
রেলপথে
অনেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম যেয়ে তারপর সেখান থেকে কক্সবাজার যেতে চান।
ঢাকা থেকে প্রথমে ট্রেনে চট্টগ্রাম এবং পরে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাসে কক্সবাজারে যাওয়া যায়।ঢাকার কমলাপুর এবং বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চিটাগাং মেইল, তূর্ণা, নিশীথা ও চট্টগ্রাম মেইল আলাদা আলাদ সময় ছেড়ে যায়।ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী এবং ভাড়া জানতে পারবেন www.railway.gov.bd সাইট থেকে।ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী এবং ভাড়া জানতে পারবেন রেলওয়ের ওয়েব সাইট থেকে ।
চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান
চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে হলে প্রথমে বহদ্দারহাট যেতে হবে। ওখান থেকে ৩০ মিনিট পরপর ‘পূর্বাণী’ ও ‘পূরবী’ নামে দুটি পরিবহনের বাস ছাড়ে। ভাড়া জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।এছাড়াও চট্রগ্রামের দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা ভাড়ার মধ্যেও বাসে করে সরাসরি যেতে পারেন বান্দরবন। চট্রগ্রাম থেকে বাস, প্রাইভেট কার নিয়ে বান্দরবান আসতে পারেন। প্রাইভেট কার ভাড়া ৩০০০-৫০০০।
বান্দরবন থেকে নীলগিরি যাবার উপায়
বান্দরবন থেকে নীলগিরি যেতে অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। বান্দরবান থেকে নীলগিরি, জীপ/চান্দের গাড়ি/মহেন্দ্র/সিএনজি অথবা লোকাল বাস দিয়ে যেতে পারবেন।
নীলগিরিসহ বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেড়াতে ভাড়ায় চালিত বিভিন্ন রকমের গাড়ি যাওয়া যায়।পর্যটকদের নীলগিরি যেতে হলে বান্দরবান জেলা সদরের রুমা জীপষ্টেশন থেকে থানছিগামী জীপ অথবা বাসে করে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া যায়। বান্দরবন জীপ ষ্টেশন থেকে জীপ, ল্যান্ড রোভার, ল্যান্ড ক্রুজারসহ অন্যান্য হালকা গাড়ী ভাড়ায় পাওয়া যায়।
বান্দরবান থেকে নীলগিরি রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে গেলে(জীপ/চান্দের গাড়ি/মহেন্দ্র/সিএনজি) সবচেয়ে ভালো হয়। এতে নীলগিরি যাওয়ার পথের অন্যান্য জায়গায়ও ঘুরে দেখতে পারবেন। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে চাইলে জীপ নিয়ে নিতে পারেন। এইসব জীপ আপনি বান্দরবন জীপ স্টেশন থেকে বিভিন্ন গাড়ি অনুযায়ী ৩০০০-৬০০০ টাকা ভাড়ায় নিতে পারবেন। চাঁন্দের গাড়ী গুলোতে ১২-১৪ জন যেতে পারবেন, ল্যান্ডক্রুজার টাইপ জীপ গুলোতে ৭-৮ জন যেতে পারবেন, ছোট জীপ আছে সেগুলোতে ৪-৫ জন থেকে পারবেন আর সিএনজিতে ৩-৪ জন। রাস্তায় কোন সমস্যা না থাকলে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন।
আর নীলগিরিতে যদি মেঘের মেলা দেখতে চান,তাহলে খুব ভোরে রওনা দিতে হয়।সকাল ৭/৮ টার দিকে মেঘ দেখা যায়।সবচেয়ে ভাল হয় সকালে নীলগিরি চলে গেলে।পরে ভেরার পথে বিভিন্ন স্পট দেখে নিবেন।
তবে দু’একজনের জন্য জিপ, ল্যান্ড ক্রুজার, পাইপডোরসহ রিজার্ভ গাড়িগুলোর ভাড়া অনেকটা বেশি। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়াও বান্দরবান-থানছি উপজেলা সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস সার্ভিসগুলোতে করেও নীলগিরি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সময় অপচয় হলেও খরচ কমবে। বান্দরবান শহরের থানচি বাসস্ট্যান্ড থেকে এক ঘন্টা পর পর বাস ছাড়ে ।জনপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা,সময় নিবে ৩ ঘন্টা।
চান্দের গাড়ির জন্যে: বাদশা ড্রাইভার – (৫ সিটের ল্যান্ড ক্রুজার ড্রাইভার) ফোন:-০১৫৫০৬০১৬৩৫,০১৯২৫৮৭০০২৭। এই ড্রাইভারের মাধ্যমে (নীলগিরি + চিম্বুক + শৈলপ্রপাত + স্বর্ণ মন্দির) এই চারটি সাইট দেখতে পারবেন মাত্র ২৮০০ টাকায়। ইচ্ছে করলে স্থানীয় ড্রাইভার বাদশার সহযোগীতা নিতে পারেন।
নীলগিরিতে যাওয়ার নিয়মাবলী ও টিকিট মূল্য: নীলগিরি যাওয়ার পথে সেনা চেকপোষ্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়। এটি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়। সাধারণত বিকেল ৫টার পর থেকে নীলগিরির পথে আর কোন গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয় না। তাই সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখবেন। নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্রে যেতে জনপ্রতি টিকেট বাবদ রাখা হয় ১০০ টাকা এবং গাড়ির জন্য রাখা হয় পার্কিং বাবদ ৩০০-৪০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
নীলগিরি থাকার ব্যবস্থা: নীলগিরিতে বাংলাদেশ সেনবাহিনী নিয়ন্ত্রিত নীলগিরি রিসোর্টে রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে। নীলগিরিতে রাতযাপনের জন্য সেনাবাহিনী পরিচালিত মেঘদূত, আকাশলীনা, মারমা, ইনছায়া, ইখিয়াই, মারুইপ্রে, মরুইফং, নীলাঞ্জনা নামের ছোট-বড় মোট ৮ টি কটেজ রয়েছে। আর কটেজগুলোতে থাকতে খরচ করতে হবে ছয় হাজার টাকা থেকে তের হাজার টাকা পর্যন্ত। ভাড়া একটু বেশি পড়লেও এতে থাকার মজাই আলাদা। নীলগিরি রিসোর্ট সবার কাছে আকর্ষনীয় হওয়ায় সাধারণত মাসখানেক আগে বুকিং না দিলে রুম পাওয়া যায় না, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পূর্ব বুকিং ছাড়া রুম পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অফিসার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার রেফারেন্স অবশ্যই লাগবে। নীলগিরি রিসোর্টে রেফারেন্স ছাড়া কোনো বুকিং নেয়ার নিয়ম নেই । যোগাযোগ: ০১৭৬৯২৯৯৯৯৯।
বান্দরবান থাকার ব্যবস্থা: বেশীরভাগ পর্যটক বান্দরবান থেকে নীলগিরি দিনে গিয়ে দিনেই বান্দরবান ফিরে আসেন। বান্দরবান শহরে রয়েছে থাকার জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত প্রচুর ভালো মানের হোটেল। সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে রুম ভাড়ায়ও তারতম্য ঘটে এসব হোটেলে।বান্দরবান শহর ও তার আশেপাশেই হোটেল ও রিসোর্ট গুলোর অবস্থান। বান্দরবান শহরে কিছু পরিচিত হোটেল,রিসোর্ট ও কটেজ
কোথায় খাবেন
নীলগিরিতে একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, খিদে পেলে পেট ভরে সেখান থেকে খেয়ে নিতে পারেন। তবে সেখানে খেতে হলে আগে থেকে অর্ডার করে রাখতে হবে। জনপ্রতি ৩০০-৬০০ টাকায় খেতে পারবেন। অথবা ফিরে এসে বান্দরবান শহরে খেয়ে নিতে হবে। যাবার সময় কিছু শুকনো খাবার সাথে নিয়ে নিতে পারেন।
বান্দরবান শহরে খাওয়ার জন্য রয়েছে বেশকিছু রেস্তোরা। এর মধ্যে তাজিং ডং ক্যাফে, মেঘদূত ক্যাফে, ফুড প্লেস রেস্টুরেন্ট, রুপসী বাংলা রেস্টুরেন্ট, রী সং সং, কলাপাতা রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি রেস্তোরাঁয় খেতে পারেন।
নীলগিরি ভ্রমণ টিপস
অফসিজন গেলে বা ছুটির দিন গুলো পরিহার করে ভ্রমণে গেলে খরচ কম হবে।
গাড়ি ঠিক করার জন্যে সরাসরি জীপ স্ট্যান্ডে কথা বলবেন। প্রয়োজনে দরদাম করে নিবেন।
বান্দরবান থেকে নীলগিরি পুরো পথ পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, ভ্রমণে সাবধান হোন। চান্দের গাড়িতে ছাঁদে চড়বেন না।অযথা কোন রিক্স নিতে যাবেন না।
শৈল প্রপাত বা চিম্বুকে আদিবাসীদের তৈরি জিনিস পত্র কিনতে পারবেন কম দামে।
শৈল প্রপাত ঝর্ণায় নামার সময় সাবধান থাকুক, পাথুরে পথ অনেক পিচ্ছিল।
আদীবাসিদের অসম্মান হয় এমন কিছু দয়া করে করবেন না।
যদি সম্ভব হয় নীলগিরিতে এক রাত থাকবেন, আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ভ্রমণের সময় অবশ্যই সাথে করে জাতীয় পরিচয়পত্র রাখবেন।
কম খরচে নীলগিরি ভ্রমণ করতে দলগত ভাবে ভ্রমণ করতে পারেন।
দৃষ্টি আকর্ষণ: : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ তথা আমাদের দেশের সম্পদ। এসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, এবং অন্যদেরকেও এ বিষয়ে উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
.png)
